ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

গোলাম পরওয়ারের মন্তব্য: শিক্ষাব্যবস্থা মানবতা হারিয়েছে, পশু তৈরি করছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শুধু সেক্যুলার শিক্ষা মানুষকে নৈতিক চরিত্র দেয় না, বরং ইসলামের সুশিক্ষা ছাড়া এই শিক্ষাব্যবস্থা মানবতার চেয়ে বেশি পশু তৈরি করছে। তার এই মন্তব্যের প্রমাণ হিসেবে তিনি আবরারের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আব্দুস সালাম হলে শহীদ আবরার ফাহাদ দিবসের উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন, যা বাংলাদেশ জনতা দলের ‘রুখে দাঁড়াও ভারতীয় আধিপত্যবাদ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাগপার সহ সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, আবরার ফাহাদ কোন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও মেধাবী ছাত্র। তিস্তা নদী, ফেনী নদী, গ্যাসের অবস্থা ও কলকাতার বন্দরের বিষয় নিয়ে তিনি ফেসবুকে ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে লেখালেখি করলে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী ছাত্ররা এই ধরনের নৃশংস কাজ করতে পারে কীভাবে? এটি দেখায় তাদের মনন, শিক্ষা ও চরিত্রে মানবতা হারিয়ে গেছে।

অতিরিক্তভাবে, তিনি বলেন, এখন আধিপত্যবাদ নৈরাজ্য বা শুধু ভৌগোলিক দখল নয়, বরং একটি দেশের অন্য দেশের ওপর রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে শাসন প্রতিষ্ঠা করাও আধিপত্যবাদের অংশ। এর মাধ্যমে দেশের সরকারি সিদ্ধান্ত, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়ে থাকে। এর কারণে বাংলাদেশ তিস্তার পানি পাচ্ছে না এবং নানাভাবে শোষিত হচ্ছে।

অতি গুরুত্বপূর্ণ এক প্রশ্নের উত্তরে, গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে, একটি নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারহিসাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। এ জন্য বৈধ রাষ্ট্র কাঠামো বদলে, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার চালিয়ে নতুন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে ফ্যাসিস্ট বা অসামাজিক নেতাদের আর জন্ম না হয়।

তিনি আরও জানান, আসন্ন নির্বাচনে ইসলামী ও দেশপ্রেমিক শক্তির মধ্যে যে সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, তা যেন কোনো আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী বাধা সৃষ্টি না করে। পাশাপাশি ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সমতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে হবে, যাতে দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকে।