ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত পোশাক খাতের ক্রয়াদেশ, উদ্বেগ বাড়ছে

দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটকে ঘিরে বিদেশি ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত করায় তৈরি পোশাক খাতে উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী বুধবার এনবিআরের সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বহু বিদেশি ক্রেতাই বাংলাদেশে অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক ভূমিকা নিচ্ছেন। এর ফলে রপ্তানি-ভিত্তিক অর্থодержনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

আনোয়ার-উল আলম আরও জানান, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসে বিতরণযোগ্য অনেক ক্রয়াদেশ ইতোমধ্যেই ধীরগতিতে পড়েছে। কিছু বড় ক্রেতা নেতিবাচক সঙ্কেত দিচ্ছে এবং কয়েকটি অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবস্থিত ক্রেতাদের স্থানীয় অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তারা নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছেন। এটি রপ্তানি খাতের টেকশীলতা ও বিদেশী মুদ্রা আয়ের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিসিআই সভাপতি বর্তমান কর কাঠামোও ব্যবসাবান্ধব নয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে। মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, যা অনেকের জন্য অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাকে কঠিন করে তুলছে।

তাই তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস ও রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর প্রস্তাব দেন। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান সূত্রের এই প্রস্তাব নাকচ করেছেন বলে আলোকপাত করা হয়।

আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ ব্যক্ত করে বলেন, কর যাচাইয়ের নামের সামনে কোনো প্রতিষ্ঠানকে তাদের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এতে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিলের দাবি জানান। তারা সরকারের প্রতি করের বোঝা বাড়িয়ে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত না করে সহায়ক কর কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

শিল্পশিল্পীদের মত, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না করা হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না করা হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগী সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তারা বলছেন—তৎক্ষণাত ব্যবস্থা না নিলে চাকচিক্যময় অথচ নাজুক এই সেক্টরের ওপর চাপ বাড়তেই থাকবে।

সেক্টরের প্রতিনিধিরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, কর নীতি আরও ব্যবসা-বান্ধব করা এবং রপ্তানি আদেশ ধরে রাখার জন্য কার্যকর সমাধান দাবি করেছেন।