জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি তরুণদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।”
অনুষ্ঠানটিতে বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। এছাড়া শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনকারী মহিউদ্দিন রনিকে দলীয়ভাবে গ্রহণ করা হয়। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে পারেননি; বাকিরা মঞ্চে অনাবৃত্তভাবে অংশ নেন এবং নাম ঘোষণা শেষে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।
বক্তৃতায় নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “জাতীয় নির্বাচন হয়ে সরকার গঠনের পর নির্বাচিত সরকার গণভোটকে অস্বীকার করেছে। তারা ওই নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তরাধিকারকে বিচ্ছিন্ন করে এটিকে একটি সাধারণ ক্ষমতার হস্তান্তরের নির্বাচন বানিয়ে দিয়েছে।” তিনি দাবি করেন যে সংবিধান সংশোধনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলো একে একে বাতিল করা হচ্ছে এবং ব্যাংক লুটারদের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো নানাভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে নাহিদ অভিযোগ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতি পুনরায় প্রসারে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ বা কোনো স্বৈরশাসন পুনরায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে। এনসিপির ছায়াতলেই মানুষ ঐক্যবদ্ধ হবে—এটাই আমরা ধীরে ধীরে পাচ্ছি। সারাদেশ থেকে আমাদের অভূতপূর্ব সাড়া আসছে।”
এনসিপি সারাদেশে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে নাহিদ বলেন, “প্রতি সপ্তাহেই আমাদের যোগদান কর্মসূচি হবে। আমরা রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আহ্বান জানাচ্ছি—এই দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের সবার দায়িত্ব আছে। যারা রাজনীতি করতে চান, পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হোন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনের দিকে এগোতে চায়।”
বর্তমান সরকারের কর্মদক্ষতা নিয়ে গম্ভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, “সরকার ক্রমান্বয়ে ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। অর্থনীতি টালমাটাল, দেশের গণতন্ত্র নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।”




