ঢাকা | মঙ্গলবার | ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বাজার থেকে ৪ প্রতিষ্ঠানের ৮ প্রকার পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বিএসটিআই

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বলেছেন, দেশের মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চার প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত আট প্রকার পণ্য বাজার থেকে তৎক্ষণাৎ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি পরীক্ষায় এসব পণ্যে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি এবং বাংলাদেশি মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিহীন গুণগত মান পাওয়া গিয়েছে।

বিএসটিআই সোমবার প্রকাশ করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে যে, ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেসের ‘আমের আচার’-এ মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে। একই পরীক্ষা অনুযায়ী কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ‘বেলিসিমো’ ব্র্যান্ডের রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট আইসক্রিমে ‘টোটাল মিল্ক সলিড (নন-ফ্যাট)’ের মাত্রা বাংলাদেশ মানের চেয়ে অনুপযুক্তভাবে বেশি পাওয়া গিয়েছে।

অপরদিকে অলিভ বাংলাদেশ প্রসাধনী বিভাগের লাবণ্য ব্র্যান্ডের কয়েকটি পণ্যে — মিল্ক স্কিন লোশন, অ্যালোভেরা স্কিন লোশন, মোরিঙ্গা+মাচা ফোমিং মিল্ক ফেসওয়াশ ও অ্যালোভেরা ভ্যারিয়েন্টের শ্যাম্পু — মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি ধরা পড়ায় সেগুলোও অনতিবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডেকো ফুডসের ‘ডেকো ফ্রুট ফান্ডা’ ব্র্যান্ডের ম্যাঙ্গো ও অরেঞ্জ ভ্যারিয়েন্ট সফট ড্রিংক পাউডারে বাংলাদেশ মানমাত্রার তুলনায় ভিটামিন সি-এর পরিমাণ কম পাওয়া যাওয়ায় তা বাজার থেকে তুলে নিতে বলা হয়েছে।

বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষাে অকৃতকার্য প্রাপ্ত এসব পণ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতিমধ্যেই প্রত্যাখ্যান পত্র পাঠানো হয়েছে। পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্য উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ বন্ধ রাখার সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তাদের উক্ত পণ্য দেশের সব পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে এবং নির্দেশনাগুলোর প্রয়োগ নিবিড়ভাবে তদারকি করবে বলে জানিয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএসটিআইর মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনগণ যাতে মানসম্মত পণ্য ক্রয় করতে পারে তা নিশ্চিত করাই সংস্থার প্রধান দায়িত্ব। তিনি ক্রেতাদের আবেদন জানান যে পণ্য কেনার আগে বিএসটিআই মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণতার তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করবেন। একই সঙ্গে কোনো পণ্যের মানহীনতা, ভেজাল, প্রতারণা বা বিএসটিআই মানচিহ্নের অপব্যবহার সম্পর্কিত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআইকে জানাতে অনুরোধ করেন।