পরিবর্তনশীল ভোক্তা চাহিদা ও স্থানীয় বাজারের বাস্তবতা জানতেই মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে নিচ্ছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজার পরিদর্শনে যাচ্ছেন এবং সরাসরি খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক ও মাঠকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে মূল্যবান তথ্য সংগ্রহ করছেন।
বাংলাদেশের এফএমসিজি (নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য) বাজারের আকার প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বাজারের ৯৫ শতাংশের বেশি কার্যক্রম পরিচালিত হয় প্রায় ১৪ লাখ মুদি দোকান, পাইকার ও স্থানীয় বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে। তাই বিক্রির কাঁচা তথ্যের পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতা ও মাঠকর্মীদের অভিজ্ঞতা বাজারের প্রকৃত চিত্র আঁকার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাজার পরিদর্শনে রুহুল কুদ্দুস খান সরাসরি জানতে চান—কোন অঞ্চলে কোন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, কোথায় সরবরাহে ঘাটতি হচ্ছে এবং ভোক্তাদের প্রত্যাশায় কী ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তিনি খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে জানতে চান কেন কোনো পণ্য বিক্রি কমে যায়, কোন প্যাক সাইজে চাহিদা বাড়ছে, কিংবা নতুন পণ্য রাখার বিষয়ে বিক্রেতারা কোনো অনাগ্রহ প্রকাশ করলে তার কারণ কী। এসব পাঠ মাঠের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় প্রতিফলিত করা হয়।
রুহুল কুদ্দুস খানের প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে উৎপাদন, সাপ্লাই চেইন, পরিচালনা, ব্যবসায়িক রূপান্তর ও নেতৃত্বসহ ইউনিলিভারের ভ্যালু চেইনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এই বিস্তৃত অভিজ্ঞতা তাঁকে পণ্য উৎপাদন থেকে ভোক্তার হাত পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের বাস্তব সমস্যা ও সুযোগ বুঝতে সাহায্য করে।
বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভোক্তাদের ক্রয় আচরণেও বদল দেখা যাচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি ও আয়সংকোচের কারণে গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের বাজারে ছোট প্যাক সাইজের চাহিদা বেড়েছে, আর শহুরে ভোক্তাদের মধ্যে প্রিমিয়াম ও বিশেষায়িত পণ্যের দিকে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। অঞ্চলভিত্তিক এই বৈচিত্র্য বুঝতে স্থানীয় বাজারের পরিসংখ্যানের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের ইনসাইটগুলোকে সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রচলিত মাঠপর্যায়ের তথ্যের পাশাপাশি ইউনিলিভার বাংলাদেশ প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম ‘আইকিউ নেক্সাস’ প্রতিদিনের বিক্রির ডেটা বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা ও বাজার প্রবণতা শনাক্ত করতে সহায়তা করে। তবে কোম্পানির দৃষ্টিতে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ allein পর্যাপ্ত নয়—ভোক্তাদের আচরণ ও স্থানীয় সমস্যার বাস্তব কারণ জানার জন্য মাঠকর্মীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সেই ডেটা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ইউনিলিভার বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতি ১০টি পরিবারের ৯টিতে প্রতিষ্ঠানটির কোনো না কোনো পণ্য নিয়মিত ব্যবহৃত হয়। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এই বাজার উপস্থিতি ধরে রাখতে ভোক্তাদের পরিবর্তিত চাহিদা বোঝা, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কথা শোনা এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে সিদ্ধান্তে কাজে লাগানো চালিয়ে যাবে। এসব উদ্যোগের ফলে তারা আশা করছে স্থানভিত্তিক চাহিদা দ্রুত শনাক্ত করে সঠিক সরবরাহ ও পণ্যের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে।




