ঢাকা | বুধবার | ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা-নাট্যকার আতাউর রহমান আর নেই

স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বরিষ্ঠ অভিনেতা, নাট্যকার এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আর নেই। আজ ১২ মে রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।享 তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিনয়জগতের এই প্রিয় ব্যক্তিকে হারাল দেশ। অপু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমাদের সম্মানিত সদস্য ও প্রিয় সহকর্মী মঞ্চসারথী আতাউর রহমান খানিকক্ষণ আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা।’

গত শুক্রবার বাড়িতে পড়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকছিল। প্রথমে তাকে রাজধানীর গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা লাইফ সাপোর্টের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। ওই হাসপাতালে ICU সুবিধা না থাকায় পরে ধানমন্ডির আরেকটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়; ভর্তি হওয়ার পর তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। কিছু সময় শারীরিক উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবার লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

তার কন্যা শর্মিষ্ঠা রহমান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আব্বার অবস্থা খুবই জটিল ছিল। একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়েছে—চিকিৎসকেরা তাই জানিয়েছে। সবার কাছে আব্বার সুস্থতার জন্য দোয়াপ্রার্থনা চাই।’ নানান চিকিৎসা চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা করা যায়নি।

আতাউর রহমান ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীর গফরগাঁও (বা নোয়াখালী) এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অভিনয়, মঞ্চনির্দেশনা, নাট্যলেখা ও সাহিত্যচর্চায় দারুণ ভূমিকা রেখেছেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে গান্ধী রাখেন। তাঁর শিল্প-সংস্কৃতির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে একুশে পদক ও সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেছেন।

তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক বড় শূন্যতার সৃষ্টি হলো। পরিবার, সহকর্মী ও ভক্তজনদের গভীর শোকাবহ মনোভাব প্রকাশ করছে—অনেকেই শোকসন্তপ্ত টুইট ও পোস্টে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। মরহুমের প্রতি সহমর্মিতা ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।