ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’, আশা ভোঁসলেকে নিয়ে রুনা লায়লার শোক

ভারতের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনন্তলোকে চলে গেছেন। ১২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। তাঁর প্রয়াণে সঙ্গীতজগতে গভীর শোক নেমে এসেছে এবং উপমহাদেশের বরেণ্য শিল্পীরা তাদের স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

রুনা লায়লা আশা ভোঁসলের প্রয়াণে profound শোক ব্যক্ত করে বলেন, “পৃথিবীর বড় বড় দুইজন কিংবদন্তি একের পর এক চলে গেলেন। লতা মুঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে চলে গেলেন, আর এখন আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেল।”

নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রুনা লায়লা আরও জানান, “তারা দুজনেই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন—মায়ের মতোই। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার শেষ দেখা হয়েছিল আমার সুর করা গান ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’–এর রেকর্ডিংয়ের সময়। এরপর ফোনে যোগাযোগ হয়েছে, কিন্তু কিছুদিন ধরেই ভাবছিলাম আবার কথা বলব—আজ করব, কাল করব—এই ভাবনায় আর করা হয়নি। শেষ কথাটাও বলা হলো না।” তিনি কিছু পড়ে অবশ্যই আফসোস ব্যক্ত করে বলেন, “যদি তখনই ফোন করতাম, হয়তো আজ এই আফসোসটা থাকত না।”

আশা ভোঁসলেকে শনিবার সন্ধ্যায় বুকে ব্যথা নিয়ে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল; সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। তবুও শেষ পর্যন্ত ফিরে আসা হলো না।

আশা ভোঁসলে প্রতি প্রজন্মের শ্রোতাকে ছুঁয়ে যাওয়া অসংখ্য গান ও কালজয়ী সুর উপহার দিয়ে গেছেন। টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সংগীতে তাঁর প্রভাব অমোচনীয়—হাজারো গান, অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত এবং বহু শিল্পীর অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে তাঁর অবস্থান অনস্বীকার্য। তাঁর প্রয়াণে একটি সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল, যা অনেকেরই হৃদয়ে গহ্বরে শূন্যতা রেখে যাবে।