ঢাকা | সোমবার | ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা

নারী ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা—আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ঘোষণা করেছে রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি, যা আগের আসরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটে বাড়তি বিনিয়োগ এবং দর্শক আগ্রহ বৃদ্ধির দিক নির্দেশ করছে।

আইসিসি জানিয়েছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ১০৮ কোটি বাংলাদেশি টাকা)। ২০২৪ সালের আসরের প্রায় ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার ডলারের তুলনায় এ বছর প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে।

প্রাইজবিতরণের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার (প্রায় ৩০ কোটি টাকা), রানার্স-আপ দল পাবে ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার (প্রায় ১৫ কোটি টাকা)। সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া প্রতিটি দলই পাবে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার (প্রায় ৯ কোটি টাকা)। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচে জয়ী দলের জন্য নির্ধারিত পুরস্কার রয়েছে ৩১,১৫৪ ডলার (প্রায় ৪০ লাখ টাকা)। টাইমটেবিল অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী ১২টি দল প্রত্যেকে ন্যূনতম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার (প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা) নিশ্চিতভাবে পাবেন।

এ টুর্নামেন্টে আরও একটি বড় পরিবর্তন হলো দলসংখ্যা বৃদ্ধি—প্রথমবারের মতো ১২টি দেশ অংশ নিচ্ছে। দলের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে রাজনীতিক প্রতিযোগিতা তীব্র হবে এবং বড় পরিসরে প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগের আসরগুলোর তুলনায় এই সিদ্ধান্ত খেলাটিকে আরও জমজমাট ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে।

আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা বলেন, “নারী ক্রিকেটের বিকাশ এখন দ্রুততর হচ্ছে। দলসংখ্যা বৃদ্ধি ও রেকর্ড প্রাইজমানি আমাদের বৈশ্বিক ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করার প্রতিফলন।” তিনি আরও যোগ করেন, বিনিয়োগের এই বৃদ্ধিই নারীদের ক্রীড়াঙ্গনে অংশগ্রহণ ও প্রভাব বাড়াতে সহায়তা করবে এবং দর্শকসংখ্যা ও সম্প্রচারের ক্ষেত্রেও নতুন রেকর্ড গড়া সম্ভব।

টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে আইসিসি ইতোমধ্যে ট্রফি ট্যুর শুরু করেছে। লর্ডসে (লন্ডন) ট্রফি প্রদর্শন করে এই যাত্রার সূচনা হয়েছে। এরপর ট্রফিটি নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড সফর করবে। মে মাসে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহর—লিডস, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, ব্রিস্টল, সাউথ্যাম্পটন ও লন্ডনে ভক্তদের জন্য ট্রফি প্রদর্শন ও অন্যান্য ইভেন্টের আয়োজন করা হবে, যা টুর্নামেন্টের উত্তেজনা বাড়াবে।

২০২৬ সালের ১২ জুন এই বিশ্বকাপ শুরু হবে এবং উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার। মোট ৩৩টি ম্যাচ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। এই সফরে ক্রিকেটের ট্র্যাজেক্টরি, নারীদের উপস্থিতি ও দর্শক আগ্রহ—সবকিছুই নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সংক্ষেপে, বড় প্রাইজমানি ও দলসংখ্যা বৃদ্ধির সংযোজন নারী ক্রিকেটকে শুধুমাত্র ক্রীড়া হিসেবে নয়, বাণিজ্যিকভাবে ও সামাজিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে। আগামী বিশ্বকাপ খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ এবং ভক্তদের জন্য উত্তেজনার উৎস হয়ে উঠবে।