ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

রাজস্ব কমে বাজেট বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ: সিপিডি

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করছে যে, দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বড় বাধা হলো দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা। যদি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পর্যাপ্ত রাজস্ব না ওঠে, তবে দেশের উন্নয়নমূলক বাজেট ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নে সমস্যার সৃষ্টি হবে এবং চাপ বেড়ে যাবে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকার ধানমন্ডিতে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য প্রদান করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, যদি জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়ে, তাহলে দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। ফলে এই বিষয়গুলোকে স্বাগত ও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করে বাজেট প্রণয়ন করা জরুরি।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, দেশের রাজস্ব আহরণের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা একটি বড় সমস্যা, যা বাজেটের বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব না পাওয়া হলে, উন্নয়ন কাজের ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ বাড়ে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, আগে নেওয়া ঋণের ভার ও বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে অর্থনীতি সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাছাড়া, মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের বাজেট বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনীয় সংস্কারভিত্তিক হওয়া উচিত।

করসংক্রান্ত বিষয়ের দিকে লক্ষ্মী করে তিনি বলেন, এখনও যারা করের আওতায় আসেননি, তাদের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া দরকার। তবে, করের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কমানোর বিষয়েও মনযোগী হতে হবে।

সিপিডি বর্তমানে সরকারি ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। তারা বলছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো যদি অভ্যন্তরীণ আয়ের ভার বাড়াতে না পারে, তবে ভর্তুকি দিয়ে চালিয়ে যাওয়ার যুক্তি সংকুচিত হবে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হবে।