ঢাকা | বুধবার | ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সংবিধান সংস্কার পরিষদ না ডাকা হলে ১১ দল রাজপথে নামবে: জামায়াত

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত ডাকা না হলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি বলেন, আগামীকালের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নিলে তারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান তিনি। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সকালে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের মানুষ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে; যদিও নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হয়েছে, তবুও ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে জোটের অভিযোগ।

তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রসঙ্গে একদিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। মন্ত্রিসভা ও সংসদ অধিবেশন ডাকা হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন এখনও ডাকা হয়নি, যা জোটের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

জুলাই সনদের বিধি মোতাবেক সংসদের নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন আহ্বানের পরামর্শ দিবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন—কিন্তু এখনো সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, তিনি অভিযোগ করেন।

ড. হামিদুর বলেন, ‘সরকার দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না নিলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষায় বিরোধী দলগুলো রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’ এ বিষয়ে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি জানান।

জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক আগামী ২৮ মার্চ ডাকার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে; ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করা হতে পারে, জানান তিনি।

অপরদিকে, তিনি ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ ও প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতাকে জনমনে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন এবং এসব সিদ্ধান্ত বাতিল করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. হামিদুর বলেন, প্রয়োজন হলে বিরোধী দল সংসদে এবং রাজপথ—দুই জায়গাতেই তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা কার্যত বাস্তবায়ন করতেই হবে।’’