ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দেশটির সাংবিধানিক আদালত সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তার এই পদচ্যুতির পেছনে মূল কারণ হলো একটি ফোনকলের রেকর্ড প্রকাশ, যেখানে তাকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে উল্লেখ করা হয়। এই ফোনকলের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ফোনে তিনি তার দেশের সেনাবাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেন এবং কম্বোডিয়ার সেনার প্রাণহানির জন্য তাদের প্রতি গালি দেন। এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, যে সময় থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, এমনকি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই সংঘর্ষ বন্ধ হয়। পরে এই ফোনকলের বিষ্ময়কর রেকর্ড ভাইরাল হলে গোটা দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে, পেতোংতার্ন গোপনে থাইল্যান্ডের স্বার্থের আপোস করছেন বলে। তিনি তখন ক্ষমা চেয়ে বলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমনের জন্য। এই সব ঘটনা শেষে, ১৫ জুনের ওই ফোনকলের ভিত্তিতে তিনি অংশবিশেষ বলেন, “যে কোনো কিছু চাইলে আমাকে বলবেন, আমি দেখব।” এরপর নির্মম সত্যটি সামনে আসে, দেশটির আদালত ১ জুলাই তার প্রধানমন্ত্রীপদ স্থগিত করে। যদিও তিনি মন্ত্রিসভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন। এভাবে ২০০৮ সাল থেকে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায়ে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্নের এই অস্থির পরিস্থিতি বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যে দেশের নেতৃত্বে ধীর ও সুসংগঠিত পদক্ষেপ জরুরি।