ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ঘূর্ণিঝড় মোন্থার শক্তি বৃদ্ধি, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিমি

বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত গভীর নিম্নচাপটি এখন ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এই ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সমুদ্রের তীব্র উত্তাল হচ্ছে। জানা গেছে, এটি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে অতিক্রম করতে পারে।

শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে আবহাওয়া অফিসের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তার আশপাশের দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে এখন ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এর কেন্দ্র বর্তমানে অবস্থিত ১১.৭° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৫.৫° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের অঞ্চলে।

আজ ভোর ৩টায় এই ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান ছিল চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৬০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১৩০০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১২৮০ কিলোমিটার এবং পায়রা থেকে ১২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে। আসছে দিনগুলোতে এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, আগামী মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বা রাতে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে এই শক্তিশালী ঝড়।

ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের বাতাসের সর্বোচ্চ গতি এখন ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, তবে ঝড়ো বা দমকা হাওয়ার সময় এই গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে। আশঙ্কা রয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি যদি আরও শক্তি বৃদ্ধি করে এবং সিভিয়ার সাইক্লোনে পরিণত হয়, তবে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং জলোচ্ছ্বাসের উদ্বেগ সৃষ্টি হবে।

প্রসঙ্গত, এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে দ্বিতীয় অস্থায়ী সতর্কতা সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছে নিরাপদে চলাচল ও বিচরণ করতে বলা হয়েছে। গভীর সাগরে বিচরণ থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ঝড়ের প্রভাবে কোনও অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা না ঘটে।