ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং স্থানীয় মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল ও অপ্রত্যাশিত, এবং যেকোনো মুহূর্তে তা আরও খারাপ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশে বিমান চলাচল বাতিল বা আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দপ্তরটি আরও সতর্ক করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকেও বিভিন্ন দেশের মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে; পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা বা নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এই সতর্কবার্তা জারির কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে সরকারি হিসাব অনুযায়ী নিহত মার্কিন সামরিক ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।

প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে জোরালো মন্তব্য করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; পরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনার পর সেন্টকম আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট এমন একাধিক লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করে নতুন হামলার ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে যে, নিহত সেনাদের দায়ের সঠিক জবাব দিতে এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার রাতেও কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও সিরিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির দাবি, গত সাত রাতের তুলনায় ওই রাতের হামলার তীব্রতা কিছুটা কম ছিল।

ইরানি সূত্রে বলা হয়েছে, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র বৃহৎ আকারে মোকাবিলা শুরু করার পর থেকে তেহরান প্রায়ই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, ওমান, ইরাক ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে বলে ইরান দাবি করেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে এমনভাবে ‘‘শিক্ষা’’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন, যা তারা সহজে ভুলবে না—এমন সুরের বার্তা দিয়েছেন তেহরান। এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, যদি তাদের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে পুরো অঞ্চলের ক্ষতির মূল্য দিতে হবে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৭ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ এর বেশি আহত হয়েছেন; মৃতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছেন—এমন দাবি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রথম দফার হামলায় ইরানে প্রায় ৩৫ হাজার নয়—প্রতিবেদনগুলোর কিছুতে ৩ হাজার ৫০০—(মূল লেখায় সংখ্যাটি অস্পষ্ট) এবং লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানে আরও প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছে। তবে এসব হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়।

পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কবার্তা বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের সচেতন ও সাবধান থাকার আহ্বান জানাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অবিলম্বে স্থানীয় কূটনৈতিক মিশন অথবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছে।