ঢাকা | শুক্রবার | ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

খেলাপি ঋণ আদায় ত্বরান্বিত করতে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে নির্দেশনা জারি

বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দক্ষ মধ্যস্থতাকারী (মেডিয়েটর) নিয়োগের নির্দেশনা জারি করেছে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ উদ্দেশ্যে একটি সার্কুলার প্রকাশ করেছে যা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই ‘প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা’ পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেয়।

নতুন উদ্যোগটির লক্ষ্য বিচার ব্যবস্থায় মামলার চাপ কমানো এবং এমনসব বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগেই সমাধানের সুযোগ তৈরি করা, যেগুলো অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এবং দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭-এর আওতায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সার্কুলারে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে যে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ সমাধান করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সময়সীমা নির্ধারণকে ব্যাংক খাতের তারল্য ও আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বর্তমান অনাদায়ে ঋণের উচ্চ মাত্রা বিবেচনা করে এই এক শতাংশ লক্ষ্যকে জাতীয় ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের এক সফল সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীতিমালায় বিশেষ করে আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তিতে জোর দেয়া হয়েছে এবং এডিআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্যানেলভিত্তিক মধ্যস্থতাকারী নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের প্যানেলে স্থান পেতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্যান্য অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্তি করা যেতে পারে।

মধ্যস্থতাকারী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সার্কুলারে ১০টি যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম, বিশেষজ্ঞ দক্ষতা, মধ্যস্থতা সম্পর্কে জ্ঞান, প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, কোনো বৈধ অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা, আর্থিক সততা, ঋণখেলাপি না থাকা এবং যথাযথ আর্থিক সক্ষমতা।

মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে ব্যাংকগুলোকে কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে, এসব মধ্যস্থতা সুবিধা সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, দ্রুত এবং আদালতের বাইরে সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দীর্ঘমেয়াদি আইনি ঝামেলা কাটিয়ে উঠা যায় এবং এটি ঋণ পুনরুদ্ধারে একটি কার্যকর বিকল্প গঠন করবে। নতুন নির্দেশনাটি ২০২৪ সালের ২২ মে জারি করা বিএরপিডি সার্কুলার নং-১১-এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রাক-মামলা পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে।