ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকা হলে রাজপথে নামবে জামায়াতসহ ১১ দল

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকার তোড়জোড় না হলে সরকারকে বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন চালাবে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট—এই আশঙ্কা ও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সাধারণ সম্পাদক ড. হামিদুর রহমান আজাদ।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, বলেও তিনি জানান।

ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সরকারের দাবি থাকা সত্ত্বেও জনগণমুখী ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায়নি—এই অভিমান সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত একদিনের গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অথচ সংসদ অনুচিত প্রক্রিয়া না মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেই। ‘‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন; কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি,’’ তিনি উল্লেখ করেন।

ড. হামিদুর বলেন, যদি সরকার দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করে, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার্থে বিরোধী দলগুলোকে রাজপথে নামতে বাধ্য হতে হবে। কবে, কোথায় এবং কী ধরনের কর্মসূচি হবে—এ বিষয়ে শীঘ্রই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি জানান, জোটের শীর্ষ নেতাদের আগামী ২৮ মার্চ বৈঠকের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে; ওই বৈঠকে ভবিষ্যত আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে।

বৈঠকে একাধিক বিষয়কেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়—বিশেষত ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ এবং প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা জনগণের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ড. হামিদুর দাবি করেন, এসব সিদ্ধান্ত বাতিল করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার সুযোগ ফিরিয়ে দিতে হবে।

সংসদে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকাসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী বিরোধী দল both সংসদে সহযোগিতা করবে ও রাজপথেও তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘জুলাই সনদ আংশিকভাবে নয়, পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন চাই—কারণ জনগণের রায়ের মাধ্যমে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’’

ব্রিফিংয়ে তিনি কাউকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেন যে, সরকার যে বিলম্ব দেখাচ্ছে সেটি সমাধান করা না হলে জনগণের আপেক্ষিক আস্থা ও গণতান্ত্রিক মর্যাদা রক্ষার জন্য তারা পদক্ষেপ নেবে।