ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দক্ষ মধ্যস্থতাকারী (মিডিয়েটর) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বলা হয়েছে, আদালতে মামলা দায়েরের আগে ‘প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা’ পদ্ধতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করতে হবে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নিষ্পত্তি করতে হবে। এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ব্যাংক খাতের তারল্য ও আর্থিক স্থিতি উন্নয়নে নিয়ন্ত্রকের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এতে বিচার ব্যবস্থায় মামলার চাপ কমবে এবং অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ ও দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭-এর আওতায় পড়তে পারে এমন অনেক বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগেই সমাধান সম্ভব হবে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীর নির্বাচন হবে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বারা গঠিত প্যানেলের মধ্য থেকে। এসব প্যানেলে থাকা যেতে পারে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অন্যান্য অভিজ্ঞ পেশাজীবী।

মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনে যেসব যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত রাখা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা ও পক্ষপাতহীনতা, পেশাগত সুনাম, উপযুক্ত দক্ষতা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, মধ্যস্থতা সংক্রান্ত প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, পরিষ্কার আইনি রেকর্ড, আর্থিক সততা, ঋণখেলাপি নন-থাকা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা। মোট দশটি শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ব্যাংকগুলোকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের মধ্যস্থতা সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করতে তফসিলি ব্যাংকগুলোর সক্রিয় ভূমিকা নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, আদালতের বাইরে দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়ার বিকল্প একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি এটি জাতীয় পর্যায়ে ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে শক্তিশালী করে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও তাত্ক্ষণিকতার উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।