ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

তরুণদের ঐক্যই দেশের স্বৈরাচার প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি: তারেক রহমান

বাংলাদেশে গভীর ষড়যন্ত্রের মুখে দেশের স্বাভাবিক অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জনগণ, নেতাকর্মী এবং সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান যেন দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ ও স্বাধীনতা সংরক্ষিত থাকে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে অনুষ্ঠিত কুমিল্লা দক্ষিণ বিএনপি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এটি ছিল ১৬ বছর পর চতুর্থবারের মতো কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মেলন।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন, এবং সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা। সম্মেলনে দলটির ছয়টি সংসদীয় আসন, চারটি পৌরসভা, ১০৭টি ইউনিয়ন এবং ১০০০-এর বেশি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, দেশের ইতিহাসে তিনটি স্বৈরতান্ত্রিক সরকারকে জনগণ হটিয়েছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ না থাকেন, তাহলে দেশের অন্ধকার পথে ফেরার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আবারও গুপ্ত স্বৈরাচারী শাসনের উদ্ভব হতে পারে, তাই সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মিছিল-মিটিংই শেষ কথা নয়, জনগণের কাছে সরাসরি যেতে হবে এবং জনসংখ্যার দুয়ারদুয়ারেও পৌঁছাতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা অনেক সংগ্রাম করে দেশের স্বাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন। তারা জেলে গেছেন, গুম হয়েছেন, কিন্তু স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়েছে। এখন আমাদের আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।’

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের স্বার্থে সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, কারণ দেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এই একটিই মূল অস্ত্র। তিনি ভবিষ্যতেও দলকে শক্তিশালী ও সংগঠিত করে দেশের গণতান্ত্রিক আদর্শকে বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, এবং নেতৃবৃন্দের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ ও সফল দলের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে দলটি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার নেতাকর্মীগণের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও দায়িত্ববোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।