ঢাকা | শুক্রবার | ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

ট্রাম্প চান জিয়ানি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোকে ভবিষ্যতে জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য পোস্ট’-ের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর দাবির কথা বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, এ বছর বিশ্বকাপ আয়োজনে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার মাধ্যমে ৫৬ বছর বয়সী সুইস নাগরিক ইনফান্তিনো ট্রাম্পের সঙ্গে নৈকট্য গড়ে তুলেছেন। ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট রাখতে তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং গত ডিসেম্বরেই ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে ফিফার ইতিহাসে প্রথম ‘শান্তি পুরস্কার’ করেন। ট্রাম্পের কাছের এক সূত্র বলেছে, প্রেসিডেন্ট মনে করেন ইনফান্তিনো বিশ্বজুড়ে সম্মান পেতে পারেন এবং মানুষের মধ্যে ঐক্য আনার দক্ষতা তার আছে।

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন চলতি বছরের শেষ দিকে হবে, যখন বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষ করবেন। মহাসচিবের পদে প্রতিষ্ঠিত হতে ইনফান্তিনোকে প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে সমর্থন অর্জন করতে হবে, যেখানে পাঁচটি স্থায়ী দেশের ভিটো ক্ষমতা রয়েছে, এবং পরে সাধারণ পরিষদের অনুমোদন নিতে হবে।

তবে এখনও পরিষ্কার নয় ইনফান্তিনো নিজে এই পদে আগ্রহী কি না এবং ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে এ সম্পর্কে কতটা আলোচনা করেছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রেরা বলছে, চলতি প্রার্থীর তালিকায় কিছু দুর্বলতা রয়েছে—একটি সূত্র এটি ‘দুর্বল প্রার্থী তালিকা’ বলে উল্লেখ করেছে—যা ট্রাম্পের চিন্তা-ভাবনা করে তুলেছে।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন চিলির সাবেক রাষ্ট্রপতি মিশেল ব্যাচেলেট, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারানোর সম্ভাবনার মুখে পড়তে পারেন, এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সভাপতি আর্জেন্টাইন রাফায়েল গ্রোসি, যাকে মধ্যে ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে যুক্তরাজ্যের আপত্তি জটিল করে তুলতে পারে।

ঐতিহ্যগতভাবে মহাসচিব নির্বাচন অঞ্চলভিত্তিক পালা মেনে চলে; এবার লাতিন আমেরিকা বা ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মহাসচিব হওয়ার কথা ছিল—এই অঞ্চলের সর্বশেষ একজন ছিলেন পেরুর হাভিয়ার পেরেস দে কুয়েয়ার (১৯৮২-১৯৯১)। ট্রাম্প ইনফান্তিনোকে প্রস্তাব করলে এই ভৌগোলিক নিয়মানুযায়ী রীতি বদলাতে পারে।

তবে সূত্ররা জানাচ্ছে, শুধু ভৌগোলিক রীতি ইনফান্তিনোর পথে বাধা হয়ে থাকবে না; ট্রাম্পের পক্ষে কথা বললে তিনি বিভিন্ন দেশের সমর্থনও পেতে পারেন। সিদ্ধান্ত আবেদন ও কূটনৈতিক সমীকরণ কিভাবে গড়বে, তা পরবর্তী রাজনৈতিক মঞ্চে পরিষ্কার হবে।