ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানের আল-রুকবান এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা ‘আগ্রাসনকারী’ মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন নাসর ২’ নামে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে এবং সেই অভিযানের অংশ হিসেবে আল-রুকবান নিয়ে হামলা করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, “আমাদের অভিযান সফল হয়েছে। আল-রুকবান আবাসিক কমপ্লেক্সে বহুসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।”
আইআরজিসি এই বিবৃতিটি স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে জারি করে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কিংবা জর্ডানের কোনো সরকারিক পক্ষ থেকে এই দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ঘটনার স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটির ঘোষণা আসে এমন এক সময়ে যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময় ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিবেদনে মনে করানো হয়েছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় এবং তা ৪০ দিন পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে মিলেছিল। দুই মাসেরও বেশি সময় পর ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালীতে আমিরাতের দুইটি ট্যাংকার জাহাজে ড্রোন হামলা চালায় আইআরজিসি, যা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন বলে অভিহিত করা হয়। এরপর ৭ জুলাই থেকে কেন্দ্রীয় মার্কিন কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণ শুরু করে। পাল্টা জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং উভয়পক্ষের সংঘাত চলমান রয়েছে।
এই দাবি যতক্ষণ স্বতন্ত্র সূত্রে যাচাইযোগ্য না হবে, ততক্ষণ ঘটনাটি অনির্বাচিত হিসেবে বিবেচিত হবে। করোনো নিউজ এজেন্সি আনাদোলু এই রিপোর্টের তথ্য সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি




