ঢাকা | মঙ্গলবার | ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

৭৪ বছরে প্রথমবার বিশ্বসুন্দরী আসরে পাকিস্তান

আগামী অগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ভিয়েতনামে আয়োজিত হবে এবারের আন্তর্জাতিক ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতা। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন ২৪ বছর বয়সী অনিকা জমাল ইকবাল, যিনি ‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান’ খেতাব জিতে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

পাকিস্তান হিসেবে বেশ দীর্ঘ সময় পরে — ইতিহাস বলছে প্রায় ৭৪ বছরে প্রথমবার — বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে পা রাখার ঘটনাটি অনেকের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে ‘মিস পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন’ জানিয়েছে, তাদের সংগঠনের তরফ থেকেও ২৫ বছর পর প্রথমবার কারো অংশগ্রহণ হচ্ছে, যা তাদের জন্য বড় এক মাইলফলক। সংগঠনের প্রধান সোনিয়া আহমেদ এটিকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, অনিকা পাকিস্তানের প্রতিভা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার এক সুযোগ পাবেন।

অনিকা নতুন করে কোনো সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন না — তার পূর্ব অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তিনি ‘মিস আর্থ’, ‘মিস গ্লোবাল’, ‘মিস কসমো’, ‘মিস ইকো ইন্টারন্যাশনাল’ এবং ‘মিস অরা ইন্টারন্যাশনাল’সহ নানা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। কসমো আয়োজিত ‘ফ্রিডম অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায়ও তিনি চারটি খেতাব জিতেছেন।

শিক্ষাগতভাবে অনিকার পড়াশোনা এখনও চলমান; বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের দানিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিং ও অডিটিং নিয়ে স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনা করছেন।

সৌন্দর্যের বাইরেও অনিকার দৃষ্টি সামাজিক কাজে বেশি। তিনি ‘বিউটি উইথ পারপস’ নামে একটি প্রকল্প চালান, যা মূলত পাকিস্তানের থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সহযোগিতার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে। এই প্রকল্পের পাশাপাশি তিনি লাহোরের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের সেবায় যুক্ত আছেন।

অনিকা বলেন, বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ তাঁর কাছে শুধু সৌন্দর্য প্রদর্শনের জায়গা নয় — এটি ব্যবহার করে তিনি থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সহযোগিতা জোগাড় করতে চান এবং তাঁর প্রকল্পকে আরও মজবুত করতে চান।

পাকিস্তানের মতো এক সংরক্ষিত সমাজে মডেলিং বা পেজেন্টে অংশ নেওয়া সবসময় সহজ নয় — বিশেষত কনজার্ভেটিভ মতাদর্শ থেকে প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে। কিন্তু অনিকা সেসব সম্ভাব্য সমালোচনার দিকে বেশি খেয়াল না রেখে প্রতিযোগিতায় প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে চান।

অনিকার পরিবার তাঁর পাশে রয়েছে এবং তার এই সাফল্যে তারা গর্বিত। অভিভাবকরা সব সময় থেকে মেয়ের পেছনে ছিলেন এবং কখনও তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপ দেননি।

অনিকার বিশ্ববক্তৃতা ও সমাজসেবা উভয় ক্ষেত্রেই লক্ষণীয় সাফল্য নিয়ে ভিয়েতনামে পাকিস্তানের নাম উজ্জ্বল করতে যাচ্ছেন—এবং তার লক্ষ্য শুধু পুরস্কার নয়, নিজের দেশের দূর্বল রোগীদের জন্য বাস্তব সহায়তা তুলে দেওয়া।