ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

পুনে হত্যাকাণ্ড: শপিং বলে ১ কোটি টাকা নিয়ে প্রেমিকের কাছে হস্তান্তর করার অভিযোগ

পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগারওয়াল (২৬) হত্যাকাণ্ডে নতুন স্বরূপ পাওয়া গেছে — বাগদত্তা সিয়া গোয়াল (২০) বিয়ের কেনাকাটার জন্য শপিং বলে কেতনের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি রুপি নিয়ে সেটি তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী (২২)-এর কাছে হস্তান্তর করেছেন বলে পুলিশের অভিযোগ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কেতন এবং সিয়া দম্পতির বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের প্রস্তুতির আড়ালে কেতন বাগদত্তাকে বড় অংকের অর্থ দেন। তবে তদন্তে উঠে এসেছে, সিয়া সেই অর্থ বিয়ের কাজে ব্যবহার না করে চেতনকে তাঁর ব্যবসা ও ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করার উদ্দেশ্যেই দেয়।

তদন্তকারীরা বলছেন, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা চেতন সিয়াকে জানিয়েছিলেন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অন্তত তিন বছর সময় লাগবে। এমন পরিস্থিতিতে তারা দীর্ঘমেয়াদি একটি চতুর পরিকল্পনা করেন—কেতনকে হত্যার পর সিয়া অন্তত তিন বছর অবিবাহিত থাকবেন যাতে সন্দেহ কম থাকে; পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং চেতন আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হলে পরে তারা বিয়ে করবেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ জুন পুনের লোহাগড় দুর্গ এলাকায় কেতনকে পাহাড়ি খাদে ফেলে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। ওই ঘটনায় গত ২৯ জুন এনডিটিভি রিপোর্ট উদ্ধৃত করে সিয়া ও চেতনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের জন্য একটি সংকেতও ঠিক করা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী সিয়া পানি পান করার বা জুতার ফিতা বাঁধার অজুহাতে বসে পড়বেন — সেটিই চেতনের আক্রমণের সংকেত। কেতনকে ধাক্কা দেওয়ার সময় সিয়া নিরাপদ দূরত্বে থাকবে, যাতে দুর্ঘটনাক্রমে তিনিও খাদে না পড়েন।

তদন্তে আরও সামনে এসেছে, ঘটনার মাত্র ৩৪ মিনিট আগে সিয়া ও চেতন একটি গোপন ফোনালাপ করেছিলেন। পুলিশ কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে এটিকে হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত সমন্বয় হিসেবে দেখছে।

সূত্রের দাবি, এই পরিকল্পনা মে মাসের শেষ দিকে চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, ১৪ জুন কেতনকে খাদে ফেলে হত্যার একটি পূর্বাচ্ছন্ন চেষ্টা করা হয়েছিল; সেদিন কেতন একটি ঝোপ আঁকড়ে ধরে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন। পরে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে উপস্থাপন করতে সাপ দেখার গল্প বানানো হয় বলে পুলিশ মনে করছে।

বর্তমান সময়ে পুলিশ পুরো ষড়যন্ত্রের আর্থিক লেনদেন ও প্রযুক্তিগত প্রমাণাদি খতিয়ে দেখছে। মামলায় অভিযোগপ্রমাণ হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তদন্তকারী সূত্র জানায়।