ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পিছিয়েছে

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। আদালত আগামী ২৭ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ নিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন মোট ১২৮ বার পিছিয়েছে।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে আজ একই মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আজ আদালতে প্রতিবেদন জমা করেনি। প্রতিবেদন না দায়ের হওয়ায় আদালত নতুন দিন নির্ধারণ করেন — আগামী ২৭ আগস্ট।

এরই সঙ্গে মামলার দীর্ঘ সময়ের ইতিহাসও উঠে আসে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলানগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথম দফায় মামলার তদন্তভার ছিল ওই থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই)। চার দিন পর তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-র কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থ হলে হাইকোর্ট একই বছরের ১৮ এপ্রিল তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেন। ঘটনাটির তদন্ত দীর্ঘ সময় ধরে নানা সংস্থার হাত বদল করতে করতে জটিলতায় পড়েছে।

বছরের পরম্পরায়, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এ মামলার তদন্তের জন্য বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। টাস্কফোর্সকে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং র‌্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে; এতে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি করা হয়। ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় নির্ধারণ করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাস্কফোর্স প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে পারেনি।

এখনও প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় মামলার গতিশীলতা অচল হচ্ছে এবং এই বিলম্ব ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সুস্পষ্ট অশান্তি তৈরি করেছে। পরিবারের পক্ষ ও সাধারন মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী প্রতীক্ষা ও হতাশা দেখা যাচ্ছে। দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করবার দাবি তীব্র হচ্ছে।