ঢাকা | বুধবার | ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

তিন দিনে ইসলামী ব্যাংককে ৬,৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদে শ ব্যাংক মঙ্গলবার (১৭ জুন) ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসকে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তাত্ক্ষণিক তরলতা সহায়তা দিয়েছে। এ সহায়তা মিলিয়ে গত তিন দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রদত্ত মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬,৫০০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকটির চলমান তারল্যচাপ ও গ্রাহকদের লেনদেন স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই সহায়তা দিয়েছে। কয়েক বছর ধরে ঋণ অনিয়ম, বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ ও আমানতকারীদের আস্থাহীনতার ফলেই ইসলামী ব্যাংক তারল্যসংকটে পড়েছে, যা গ্রাহকদের উত্তোলন ও দৈনন্দিন লেনদেনে চাপ সৃষ্টি করেছে।

গত মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরাম বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠক শেষে ফোরামটি সাত দফা দাবি উত্থাপন করে। তাদের অন্যতম দাবি ছিল—অনিয়ম ও প্রভাববাবীর মাধ্যমে অধিগৃহীত বলে অভিযোগ করা শেয়ারগুলি আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে, নতুবা আইপিও পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে বিক্রি করে ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো স্বচ্ছ করা হোক।

গ্রাহক ফোরাম বলেছে, ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের বিষয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদই সিদ্ধান্ত নেবে; বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের এ তথ্য জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনী বিধিমালার মধ্যে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠকে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ এবং অভিজ্ঞ সদস্যদের নিয়ে একটি শক্ত ও জবাবদিহিমূলক পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিষয়েও বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে বলে গ্রাহক ফোরাম উল্লেখ করেছে।

ইসলামী ব্যাংক দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান। ২০১৭ সালে মালিকানা ও পরিচালনায় বড় পরিবর্তনের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পরবর্তীতে এস আলম গ্রুপের প্রভাব বিস্তার, বিপুল ঋণ বিতরণ, খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

গত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কিছু উদ্যোগ নেয়। তবু দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও ক্ষত দমন করতে এখনও যথেষ্ট সময় ও উদ্যোগ প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সুসম্পন্ন সুশাসন নিশ্চিত করাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আশা করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রণোদনা, নতুন পরিচালনা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল হবে এবং গ্রাহকদের লেনদেন স্বাভাবিক থাকবে।