ঢাকা | শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

শান্তের চতুর্থ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশ সিরিজে দারুণ উত্থান

মুহাম্মদ আব্বাসের বল কাভার ড্রাইভ অঞ্চল দিয়ে সীমানাছাড়া করতেই ব্যাট ও হেলমেট হাতে শূন্যে লাফিয়ে সজোরে চিৎকার উঠল। এটি ছিল নাজমুল হোসেন শান্ত’র নিজের ট্রেডমার্ক উদযাপন, যখন তিনি যাচাই করলেন তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে তার টেস্টে কোনো ফিফটি ছিল না, কিন্তু আজ (শুক্রবার) প্রথমে হাফসেঞ্চুরির ধাক্কা কাটিয়ে, এরপর ইনিংসকে ম্যাজিক ফিগারে রূপ দিতে তিনি কোন ধরনের অবসর গ্রহণ করেননি। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মাত্র ১২৯ বলে তুলে নিলেন তার নবম সেঞ্চুরি, যা তার ক্যারিয়ারে এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। সর্বশেষ ৮ ইনিংসে শতকের সংখ্যার মধ্যে এইটি হলো চতুর্থ, অর্থাৎ তিনি শেষ পাঁচ টেস্টে চারবারই ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছেন। পেস-স্পিনের মোকাবিলায় শান্ত’র শট বাছাই ও প্রতিটি কদম ছিল নিষ্ঠুর নিখুঁত। এরকম এক ইনিংস যদি তিনি সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে না পারতেন, তা হয়তো অপূর্ণ থেকে যেত। তবে, সেঞ্চুরি করার সাথে সাথেই তিনি দ্রুত ক্রিজ ত্যাগ করেন, পরের বলেই লেগ বিফোরের শিকার হয়ে ক্রিজ ছেড়ে যান। বাংলাদেশ ২০১ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর সময় এই ঘটনা ঘটে।

গত কয়েক বছর ধরে সাদা পোশাকে শান্তের ফর্ম উড়ন্ত। হাফসেঞ্চুরিকে তিন অংকে রূপ দিতে তিনি বোদ্ধা ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। টেস্টে তার মোট সেঞ্চুরি সংখ্যা এখন ৯, যেখানে হাফসেঞ্চুরির সংখ্যা ৫। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ ৩১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরু করলেও, এরপর শান্ত ও মুমিনুলের দুর্দান্ত জুটি ১৭০ রান গড়ে তুলে। এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড। এর আগে ২০০৩ সালে পেশোয়ারে মোহাম্মদ আশরাফুল ও জাভেদ ওমর গড়েছিলেন ১৩০ রানের জুটি। সর্বমোট, বাংলাদেশের সেরা তৃতীয় উইকেট জুটি ২৪২ রানের, যা এবার আবার শান্ত ও মুমিনুলের দখলে। তারা ২৫৩ বল খেলে এই রান করেন। শান্ত ১৩০ বলে ১০১ রান করেন, যেখানে তার ব্যাটে ছিল ১২টি চার ও ২টি ষাঁড়া। ক্রিজে অপরাজিত থাকায় মুমিনুলও হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। শেষ চার ইনিংসে তার সর্বনিম্ন ৫০+, এর আগে ৮২, ৬৩ ও ৮৭ রান করেছেন। এই ইনিংসেও বাংলাদেশের মনোযোগ আকর্ষণ করবে তার ব্যাটের ম্যাজিক ফিগার দেখতে চাইবে সবাই।