ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ ৩ জনকে অব্যাহতি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যশোর শিক্ষা বোর্ড বৃহস্পতিবার কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং বলেছে—ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

ঘটনাটি ঘটে ৩০ এপ্রিল, যখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। কালীগঞ্জ উপজেলার সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০৪ নম্বর কক্ষে নলডাঙ্গা ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী সাদিয়া খাতুন অংশ নেন। নিয়ম অনুযায়ী অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র থাকলেও কক্ষ পরিদর্শকরা ভুলবশত তাকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রই প্রদান করেন।

পরীক্ষা শেষে বাড়ি গিয়ে বিষয়টি বুঝতে পেরে সাদিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে তদন্ত করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্রের দুই কক্ষ পরিদর্শক—সূন্দরপুর চাঁদবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম ও ক.পি.কে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দীন—কে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদৌরা আক্তারকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তার বদলে সহকারী প্রধান শিক্ষক গৌতম তরফদারকে নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বিদৌরা আক্তার বলেন, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য যে বিশেষ প্রশ্নপত্র ছিল, তিনি তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বুঝিয়ে চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন এবং এর ভিডিও প্রমাণও আছে। তবুও কেন তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেছেন, বিষয়টি তার কাছে পরিচিত এবং যশোর শিক্ষাবোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম বলেন, তিনি কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনের খবর শুনেছেন, তবে এখনও লিখিত নির্দেশনা পাননি।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন নিশ্চিত করেছেন যে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের দায়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং ওই পরীক্ষার্থীর কোনো ক্ষতি হবে না—যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে, তার অনুযায়ীই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

ঘটনাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে তদারকি ও দায়িত্ব পালনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্কতা এবং দৃঢ় তদারকির প্রয়োজনীয়তা বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।