ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ফাতিমা থাহিলিয়া কেরালায় ইতিহাস গড়লেন: আইইউএমএলের প্রথম নারী বিধায়ক

কেরালার নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন ফাতিমা থাহিলিয়া। কোজিকোড়ের পেরাম্বরা আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো আইইউএমএল (ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ)-এর নারী বিধায়কের উচ্চশিরে নাম লেখালেন—এবং তা ছিল ক্ষমতাসীন বাম জোটের এক অভিজ্ঞ নেতাকে হারিয়ে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ফাতিমা টিপি রামকৃষ্ণনকে পরাজিত করেছেন; রামকৃষ্ণন ছিলেন এলডিএফের সমন্বয়ক ও সিপিআই(এম)-এর প্রার্থী। ১৯৮০ সাল থেকে পেরাম্বরা সিপিআইয়ের একটি শক্ত ঘাঁটিই ছিল—তাই এই ফল কেরালার রাজনৈতিক মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য বদল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইনজীবী এবং কোজিকোড় পৌরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর ফাতিমার এই জয়ের রাজনৈতিক মহলে বড় গুরুত্ব কাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে বাম শাসনের কবজায় থাকা ওই আসনে পরিবর্তন কেবল আসনচ্যুতি নয়; এটি কেরালার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ ও নারী নেতৃত্বের শক্তি দেখিয়েছে।

নির্বাচন চলাকালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) অভিযোগ করেছিল এলডিএফ তাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক প্রচারণা চালিয়েছে এবং বিষয়টি তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেন। নির্বাচনের সন্দর্ভ ও গতিপ্রকৃতি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কও দেখা গেছে।

আইইউএমএল এবারের নির্বাচনে মোট ২৭ জন প্রার্থী দাঁড় করায়, কিন্তু তাঁদের মধ্যে মাত্র দুজনই নারী ছিলেন—ফাতিমাও তাঁদের একজন। দলটির ইতিহাসে এর আগেও কিছু নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছিলেন, কিন্তু কেউ জেতেননি; তাই এই জয় দলের জন্যও প্রতীকী।

ফাতিমা রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেছিলেন ছাত্র সংগঠনের মধ্য দিয়ে। তিনি মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এমএসএফ) নারী সংগঠন ‘হারিতা’-র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন; ২০১২ সালে গঠিত এই সংগঠন কলেজ ক্যাম্পাসে আইইউএমএলের প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

তার রাজনীতিতে উঠে আসা সহজ ছিল না—মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের কিছু শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ সামনে এলে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট দেখা দেয়। অভিযোগ চাপা দেওয়ার চেষ্টা হলে ফাতিমা প্রকাশ্যে অবস্থান নেন; ফলস্বরূপ তাকে দলীয় কোন পদ থেকে সরানো হয় এবং হারিতা সংগঠন ভেঙে দেওয়া হয়।

বর্তমানে তিনি আইইউএমএলের যুব সংগঠন মুসলিম ইয়ুথ লিগের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বহু বিশ্লেষক তাকে কেরালার রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের মুখ হিসেবে দেখেন—একজন নেত্রী যে দলীয় কাঠামোর ভেতর থেকেও নারী অধিকার, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও সংস্কারের প্রশ্ন তোলায় পিছপা হন না।

ফাতিমার এই জয় কেরালায় নারী নেতৃত্বের দৃঢ়তার ইঙ্গিত বহন করছে এবং আগামী দিনে রাজনীতিতে বিকল্প কণ্ঠস্বরের আরও অভিব্যক্তির পথ খুলে দিতে পারে।