ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ফ্লোরিডায় নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত

ফ্লোরিডার পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় মরদেহটি বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। শুক্রবার (১ মে) ফ্লোরিডা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট নাহিদার ভাইকে ফোন করে মরদেহ শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ অনুরোধের প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন ডিসি-তে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস এবং মিয়ামিতে থাকা বাংলাদেশ কনস্যুলেট যৌথভাবে মরদেহ প্রেরণের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

নাহিদা ও আরেকজন বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন উভয়েই যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ছাত্র ছিলেন। তারা দুজনই গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিল।

প্রতিারোধ ছয় দিন পর শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) টাম্পা বে এলাকায় একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিন লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহ নামে এক মার্কিন নাগরিককে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়।

হিলসবরো কাউন্টি আদালতে গত ২৬ এপ্রিল দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, লিমনকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। ওই নথিতে জানানো হয়, লিমনের মরদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে উদ্ধার করা হয় এবং হিশাম আবুঘরবেহের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রথম-ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

একই দিনে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থানসংলগ্ন এলাকায় আরও একটি অজ্ঞাত দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা নির্ধারণ করার চেষ্টা করছেন যে এটি নাহিদা বৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত কি না।

একটি ফৌজদারি মামলার হলফনামায় বলা হয়েছে, ২৬ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর جنوبی অংশ থেকে খণ্ডিত একটি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পোশাকের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজে নাহিদা বৃষ্টিকে যে পোশাকে শেষবার দেখা গেছে তার মিল রয়েছে; নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে দুইটি পোশাকই একই ধরনের।

এদিকে জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ শনিবার (২ মে) ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। জানা গেছে, মরদেহটি দুবাই হয়ে ঢাকায় পৌঁছবে সোমবার, ৪ মে। নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ ফিরিয়ে আনার জন্যও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে; তার প্রেরণের নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করা হবে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের পর।

তদন্ত চলছে এবং স্থানীয় পুলিশ, আদালত ও কনস্যুলেটিক অঙ্গসংস্থাগুলো ঘটনার যোগাযোগ স্থাপন করে তদন্তাসাপেক্ষ তথ্য যাচাই করে যাচ্ছে।