ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জ্বালানি তেল ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ দামে

ইরানকে কৌশলগতভাবে টার্গেট করার সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা হোয়াইট হাউসকে জানানো হবে—এমন সংবাদ প্রকাশিত হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তীব্রভাবে বাড়তে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার এশীয় বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের ওপরে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে সর্বোচ্চ মূল্য। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২.৩ শতাংশ বাড়ে এবং ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলারে দাঁড়ায়।

জুন ডেলিভারির ব্রেন্ট ফিউচার কন্ট্রাক্টের মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। এদিকে এশিয়ার সকালের লেনদেনে তুলনামূলকভাবে সক্রিয় জুলাই কন্ট্রাক্টটি প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১১৩ ডলারে উঠেছিল। ফিউচার চুক্তি হচ্ছে নির্দিষ্ট এক দিনে কোনো সম্পদ কেনা বা বিক্রি করার বিধিবদ্ধ চুক্তি, তাই এগুলোতে মূল্য ওঠানামা বাজারের অনুভূতিকে দ্রুত প্রতিফলিত করে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের সূত্রে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ওপর ধারাবাহিকভাবে ‘স্বল্প ও তীব্র’ হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যেখানে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে অবকাঠামোও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির একাংশ দখল করে সেটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের উপযোগী করে তোলার একটি পরিকল্পনাও রয়েছে—যার জন্য স্থলভাগে প্রশস্ত সেনা মোতায়েনের সম্ভবনা থাকছে।

বিবিসি এই বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মন্তব্যের চেষ্টা করেছে। খবরের সূত্রে আরও বলা হয়, তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করা জাহাজগুলোকে হুমকি দেয়া অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোকে অবরোধ করে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে—যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ধরনের ‘দীর্ঘমেয়াদি’ অবরোধের প্রস্তুতির খবর বেরোনোর পর বুধবার তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক পরিকল্পনার কথা বাজারে প্রতিফলিত হওয়ায় তরতর করে দর বাড়ছে, যা সরাসরি জ্বালানি ও পরিবহন খরচে প্রভাব ফেলতে পারে।