ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জেল খাটার কৌতূহলেই ১১ বছরের হোসাইনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা: স্বীকার ৬ কিশোর

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১১ বছর বয়সী হোসাইনকে জেল খাটতে কেমন লাগে—এমন কৌতূহলেই ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছে পুলিশি তদন্তে গ্রেফতার হওয়া ছয় কিশোর। এই তথ্য সোমবার (২৭ এপ্রিল) জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান।

পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, ভাসমান ফুল বিক্রেতা সুমনের ছেলে হোসাইন ১৮ এপ্রিল সকালে নিখোঁজ হয়। পাঁচ দিন পর ২৩ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লার ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ময়লার স্তূপ থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ফতুল্লা থানা তদন্ত শুরু করলে প্রথমে ইয়াসিন নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

ইয়াসিনের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বরিশাল জেলা সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচ কিশোরকে ধরা হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস মিলে ‘খুন করলে জেলে যেতে হয়’– এমন ধারণা নিয়ে অভিজ্ঞতা লাভের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করেছিল। তারা হোসাইনকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে সুযোগে টার্গেট করে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তাদের আরও তিন সহযোগী—রাহাত, অপর এক কিশোর যার নামও হোসাইন এবং ওমর। একসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে হোসাইনকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় এবং মরদেহ পরিত্যক্ত বাড়িতে ফেলে পালিয়ে যায় বলে তদন্তে বলা হয়েছে।

গ্রেফতার ছয় কিশোরের সবাই ১৮ বছরের নীচে এবং প্রত্যেকে মাদকাসক্ত বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মুন্সী জানান, এই ঘটনায় অভিযুক্ত আরও একজন কিশোর এখনও পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে; স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ রয়েছে। পুলিশে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।