ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

হৃদয়ের হাফসেঞ্চুরি, ইমন-শামীমের ঝড়ে টাইগারদের জয়

বাংলাদেশ ১৮৩ রানের লক্ষ্যের তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানের নিরাশাজনক শুরুতে মন খারাপ ছিল। তবে মাঝের ওভারগুলোতে তাওহিদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন দলের মোমেন্টাম ফিরে আনেন।

ইমন মাত্র ১৪ বল খেলে ঝড়ো ২৮ রান করে ফেরেন। এরপর মাঠে থেকে ম্যাচ নিশ্চিত করা কাজটি করেন তাওহিদ হৃদয়—২৭ বল খেলে অপরাজিত ৫১ রান করে। ডানহাতি এই ব্যাটারের সঙ্গে ১৩ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি। এই জুটির দরুন তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ২ ওভার বাকি রেখে ৬ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ সিরিজে ১-০ lead নিল।

জয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ একটি কীর্তি গড়েছে — আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড তাদের নামে। এর আগে কিউইদের বিরুদ্ধে টাইগাররা সর্বোচ্চ ১৩৫ রান তাড়া করে জিতেছিল; আর দেশের সর্বোচ্চ সফল তাড়া ইনিংসটি ছিল ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, যেখানে দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৫ রান করেই জিতেছিল বাংলাদেশ।

রান তাড়া করতে নেমে কিউই বোলারদের সামনে ভুগতে থাকেন ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ। উদ্বোধনী জুটিটি ৫.৩ ওভারে ৪১ রানে ভেঙে যায়; প্রথম উইকেটটি নেন নাথান স্মিথ। সাইফ ১৬ বলে ১৭ ও তানজিদ ২৫ বলে ২০ রানে আউট হন। এরপর দলনেতা লিটন দাস ১৫ বলে ২১ রানে ফিরে দলের মেজাজ খানিকটা নেমে আসে—১০.১ ওভারে বাংলাদেশ ৭৭/৩-এ পিছিয়ে পড়ে।

চাপে থাকা অবস্থায় দলের ভরসা জাগান তাওহিদ হৃদয় ও শামিম; তাদের ধারাবাহিক ব্যাটিংই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দেয়।

প্রথমে নিউজিল্যান্ড ব্যাট করে; টস জিতে চট্টগ্রামে লিটন কুমার দাস কিউইদের ব্যাটিংতে পাঠান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার টিম রবিনসন রান আউটে ফেরার পর কেটেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার মিলে ৮৮ রানের জুটি গড়ে কিউইদের গতোধারা তৈরি করেন—উভয়েই করেন ৫১ রান। ক্লার্ক ৩৭ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ করে ফিরেন, আর ক্লেভার ২৮ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রান করে ফিরেন।

এই দুজনের আউট হওয়ার পর নিউজিল্যান্ড দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারায়। প্রথম ১০ ওভারে ১০০ করা কিউইরা পরের ৫ ওভারে মাত্র ৩০ রান তোলে। বেভন জ্যাকবস ১ ও ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রানে আউট হন। অধিনায়ক নিক কেলি শরিফুল ইসলামের বলেই আউট হওয়ার আগে ২৭ বল খেলে ৩৯ রান করেন। এছাড়া জশ ক্লার্কসন ৩০ ও নাথান স্মিথ ৪ রান করেন।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন রিসাদ হোসেন; এছাড়া তিনজন বোলার একটি করে উইকেট নেন। সব মিলিয়ে ব্যাট-বল উভয় দিক থেকেই কার্যকর হিসেবে উঠে আসে টাইগাররা এবং সিরিজ শুরুটা করে নিজেদের পক্ষে।