ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার স্থগিত, পোশাক খাতের উদ্বেগ বেড়েছে

দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় অনেক বিদেশি ক্রেতাই বাংলাদেশের নতুন ক্রয়াদেশ দিতে পিছিয়ে পড়েছেন—এমন তথ্য প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার না—রিকার্ডিং: তিনি বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানির পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে—এমন আশঙ্কাই ক্রেতাদের সতর্ক করেছে। এতে তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের প্রধান রপ্তানি খাতগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমার সম্ভাবনা বাড়ছে।

বিসিআই সভাপতির ভাষ্য, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসের জন্য বেশ কিছু ক্রয়াদেশ ইতিমধ্যেই ধীরগতি ধারণ করেছে। বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো নেতিবাচক সঙ্কেত দিচ্ছে; কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। ঢাকা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও শীর্ষ সিদ্ধান্তগ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দেওয়ার ব্যাপারে নাক ঝারছি করে দিচ্ছেন।

আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে আনোয়ার-উল আলম বর্তমান কর কাঠামোকে ‘ব্যবসাবান্ধব’ বলেননি। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম করের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন; মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, যা তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন করে তুলছে।

বিসিআই ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দিচ্ছে এবং রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান উৎস কর কমানোর প্রস্তাব নাকচ করেছেন।

আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে বিসিআই সভাপতি বলেন, কর যাচাইয়ের নামে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অবারিত ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং এটি ব্যবসার পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নেওয়া ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানো এবং নিট সম্পত্তির ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিলের দাবি জানিয়েছে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে করের বোঝা বাড়ানো বন্ধ রেখে ব্যবসা সহায়ক কর কাঠামো গড়ে তোলারও জোর দাবি করা হয়েছে।

শিল্প ও ব্যবসায়িক নেতৃত্বগতরা সতর্ক করেছেন—জ্বালানি সরবরাহ যদি স্থিতিশীল না হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ করা না হয়, তবে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।