ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার স্থগিত, রপ্তানিতে উদ্বেগ বৃদ্ধি

বিদেশি ক্রেতাদের জ্বালানি সংকটের সম্ভাব্য প্রভাবের আশঙ্কায় বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত করা চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। তিনি বলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ভয়ে অনেক ক্রেতা বাংলাদেশে অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে উঠেছেন।

এই প্রেক্ষাপটে তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের প্রধান রপ্তানিখাতগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তিনি অভিমত জানান। এসব মন্তব্য তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় বলেন।

বিসিআই সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা মিলে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসের জন্য যে ক্রয়াদেশগুলি আসার কথা ছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই ইতোমধ্যে ধীরগতির হয়ে গেছে। অনেক বড় ক্রেতা নেতিবাচক সিগন্যাল দিচ্ছেন এবং কিছু অর্ডার অন্য দেশ—বিশেষত ভারত—এ সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের ঢাকায় থাকা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের শীর্ষস্থ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার বাতিল কিংবা স্থগিত করার রুচি দেখাচ্ছেন। এর ফলে রপ্তানিতে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, বর্তমান কর কাঠামোও ব্যবসার ওপর বোঝা বাড়াচ্ছে বলে বিসিআই সভাপতি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারেই ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা ছোট-মাঝারি অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুতর চাপ সৃষ্টি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, ফলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

তিনি পরামর্শ দেন ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হোক এবং রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হোক। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান উৎস কর কমানোর প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছেন।

আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে আনোয়ার-উল আলম বলেন, কর যাচাইয়ের নামে প্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার বিস্তৃত ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং এটি ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) কওয়া হয়েছে, কোম্পানির ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর বর্তমান উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানো উচিত এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিল করা হোক। সংস্থাগুলো কর কাঠামো ব্যবসা-সহায়ক করে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।

শিল্প উদ্যোক্তারা সতর্ক করে বলেছেন—যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না করা হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না করা হয়, তাহলে দেশের রপ্তানির প্রতিযোগিতাযোগ্যতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। দ্রুত সমাধান না হলে রপ্তানি খাতের ওপর যে ধাক্কা পড়ছে তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।