ঢাকা | বুধবার | ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সরকার ভুল করলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার যদি ভুল পথে চলে বা জনবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেয় তবে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও বিরোধীদলের অন্য নেতাদের মতো সমানভাবে সোচ্চার হবেন। তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আয়োজন করা সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান।

আযাদ বলেন, ‘‘আমরা একটি কম্বাইন তালিকা সাবমিট করেছি। এই তালিকায় ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকার সম্ভাবনা নেই। প্রত্যাশা করি এই ১৩ জনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।’’ তিনি বলেন, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও আলাপ হয়েছে এবং তারা আশ্বস্ত করেছে যে—প্রক্রিয়াটি সময়মতো এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। কমিশন যেন কোনো ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি না করে, সেটাই তারা প্রত্যাশা করে।

আযাদ বলেন, পার্লামেন্ট বর্তমানে কার্যকর থাকায় যদি মনোনীত নারী সদস্যরা সময়মতো সদস্যপদ গ্রহণ করতে পারেন তবে নারী প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা পূরণ হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মনোনীত ১৩ জন নারী ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে পার্লামেন্টে নারী প্রতিনিধি হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

তিনি আরো বলেন, ‘‘নারীরা দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে আইনপ্রণয়ন ও সংসদীয় কাজকর্মে সম্পূর্ণভাবে অংশ নেবে; সংবিধান তাদের সেই অধিকার দিয়েছে। তারা বিরোধী দলের কাতারে বসে দেশের গঠন ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।’’

জামায়াতের নীতিসমূহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, দল সর্বদা ন্যায়সংগত ও জনকল্যাণমূলক বিষয়ে জনগণের সাথে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে। আছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এই নীতিই ঘোষণা করেছেন।

সরকারি ভুল বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত হলে বিরোধীদলের অন্যান্য সদস্যদের মতোই নারী সদস্যরাও প্রতিবাদে যোগ দেবেন—এবিষয়ে আযাদ বলেন, ‘‘৭৭ জন বিরোধীদলীয় সদস্যের সাথে ১৩ জন নারী সদস্য যুক্ত হয়ে মোট ৯০ জন বিরোধীদলীয় সদস্য একসঙ্গে ভূমিকা পালন করবে—এই প্রত্যাশা আমাদের আছে।’’

গণভোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন হওয়ার কথা ছিল। সেটি না হওয়ায় আমরা পার্লামেন্টে এবং পার্লামেন্টের বাইরেও সরকার ও জনরায় উপেক্ষার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি এবং করবো।’’

মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, জামায়াতে এমন নীতিই আছে যে একই পরিবারের দুই সদস্য সংসদে থাকবেন না; এজন্য আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এই আসনে শহীদের পরিবারের একজন মাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিনকে নিয়ে ওঠা সরকারি চাকরি থেকে অবসর সংক্রান্ত বিতর্কে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংসদীয় আইন অনুযায়ী যারা তিন বছর পূর্ণ না করেছেন তাদের বিষয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হবে বলে তিনি আশা করেন না।

নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল দাখিলের শেষ দিন ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল, প্রতীকের বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ নির্ধারিত আছে ১২ মে।