ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ট্রাম্প দাবি: পাকিস্তানে আজই ইরানের সঙ্গে চুক্তি সই হবে

ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি নিয়ে নাটক থামছে না। তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় অংশ না নেবার কথা বললেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আজই—পাকিস্তানে—এই চুক্তি সই হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, যা আল জাজিরা ফক্স নিউজের বরাতে তুলে এনেছে।

ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তারা এখন পথে। ইসলামাবাদের সময় অনুযায়ী আজ রাতেই তারা সেখানে পৌঁছাবে।’ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনারও।

ইরান জানিয়ে দিয়েছে, নৌ-অবরোধ (নেভাল অবরোধ) প্রত্যাহার না হলে তারা আলোচনায় বসবে না। কিন্তু ট্রাম্প এই শর্তকে কার্যত উপেক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনা করবো—আমি ধরে নিচ্ছি কেউ কোনো নাটক করবে না।’ প্রয়োজনে ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও সরাসরি বৈঠক করতে তিনি রাজি থাকবেন বলেও জানিয়েছেন।

ট্রাম্প পরমাণু বিষয়টি আবারও প্রধান শর্ত হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তার ভাষ্য, ‘ইরানকে তাদের পরমাণু অস্ত্র অর্জনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে হবে। কোনো পরমাণু অস্ত্র রাখা হবে না।’ তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আলোচনা ব্যর্থ হলে বা ইরান শর্ত না মানলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কী কৌশল নেওয়া হবে তা প্রকাশ করে বলেননি। ‘আমি এ নিয়ে এখন বিস্তারিত বলতে চাই না,’ তিনি সতর্ক করে যোগ করেন, ‘কিন্তু বিষয়টি মোটেও ভালো হবে না’।

এরই মধ্যে তুরস্কের সরকারি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্র দখল করলেও তেহরান সম্ভবত ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নিতে পারে। কিন্তু ইরানি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে—তারা আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’টি সূত্র জানিয়েছে, তেহরানের প্রতিনিধিদল আগামীকাল মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে। যদিও এখনও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি মাসের শুরুতে প্রথম দফা আলোচনায় অংশ নেওয়া একই প্রতিনিধিদলই এ বারও পাঠানো হতে পারে; সেখানে নেতৃত্ব দেবেন পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ এবং সঙ্গে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

সংলাপটি সফল হলে ও ব্যর্থ হলে উভয় ঘটনায় যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রভাব তৈরি হবে—তার বিষয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের অংশগ্রহণ বা অংশগ্রহণ না—এ দুই অবস্থার সবকিছু নিয়েই পরবর্তী দিনগুলোতে তরঙ্গ হবে। ফলে পাকিস্তানে আজ কি সত্যিই চুক্তি স্বাক্ষর হবে—তা নির্ধারণ করবে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও দুই পক্ষের কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ।