ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

খেলাপি ঋণ ও ঝুঁকি শনাক্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত করার লক্ষ্যে তদারকি জোরদার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই প্রেক্ষিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বতী প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী নিরীক্ষা বছরের নবম মাসের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বতীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সেটি নিরীক্ষা বছরের শেষ তারিখের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে হবে। ২০২৫ সালভিত্তিক এবং পরবর্তী সময়ের সব প্রতিবেদনও একই নিয়মে জমা দিতে হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতের তদারকি উন্নীত করার জন্য সুপারভিশন কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন (রিস্ক-বেইজড সুপারভিশন বা আরবিএস) চালু করা হয়েছে। এ নীতির ফলে সব ব্যাংককে একভাবে না দেখে ঝুঁকি বেশি যেসব ব্যাংক আছে, সেসব ব্যাংকের প্রতি তৎপর নজরদারি ও তদারকি বাড়ানো হবে।

জানানো হয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় দ্রুত ও সাবধানতার সঙ্গে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা, অনিয়ম বা ঝুঁকি চিহ্নিত করা সহজ হবে। বিশেষত ঋণঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের প্রবণতা নিয়মিত ও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সুবিধাজনক হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যাবে এবং একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। তদারকি কড়াকড়ি ও সময়মত রিপোর্টিং মেনে চললে দ্রুত প্রতিকারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের ও আমানতকারীদের আস্থাও বজায় রাখা সম্ভব হবে।