ঢাকা | রবিবার | ৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৭ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

নাহিদ ইসলাম ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যে সংস্কারগুলো অন্তর্বর্তী সরকার গ্রহণ করেছিল, সেগুলো রক্ষা করতে প্রয়োজন হলে মাঠে নামতেও হবে। ‘‘মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদের ক্ষমতা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের নিরাশ করেছে। কিন্তু যতটুকু অর্জন সেই অর্জন ধরে রাখতে তাদেরও মাঠে নামতে হবে। ড. ইউনূসকেও আমি রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানাচ্ছি,’’ বলেন নাহিদ।

পবিত্র ওমরাহ পালনের পর আজ শনিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের করা সংস্কার এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

নাহিদ বলেন, সংস্কারকে কেন্দ্র করে এখন যা হচ্ছে তা অপ্রত্যাশিত নয়। এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পর থেকে শুরু হয়েছে; ঐকমত্য কমিশন থেকেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। ৫ আগস্টের পর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল—তখন তারা নতুন সংবিধান চেয়েছিল, আর বিএনপি নির্বাচন চেয়েছিল।

তিনি দাবি করেন, তারা (নাগরিক দল) আমূল পরিবর্তন চেয়েছিল, কিন্তু বিএনপি পুরোনো ব্যবস্থাকে অক্ষুন্ন রেখে নির্বাচনেই ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল। নির্বাচনের পর বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসার পর থেকে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তুচ্ছ করছে বলে নাহিদর অভিযোগ। ‘‘তারা গণভোটের গণরায় বাতিল করে দিয়েছে। এখন শুনছি গুরুত্বপূর্ণ ১০–১১টি অধ্যাদেশ তারা সংসদে আনছে না—এসব অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করবে না,’’ বলেন তিনি।

নাহিদ অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন এবং বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোকে। তিনি বলেন, এসব বাতিল করে বিএনপি একটি নির্বaysanতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে যেতে চায় যেখানে নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা থাকবে।

সংগে তিনি বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী দলের কাতারেই আখ্যা দেন এবং বলেন, ‘‘গত ১৬ বছর তারা নির্যাতিত-নিপীড়িত দাবি করে আন্দোলন করেছে, কিন্তু মানুষের আস্থা তাদের প্রতি ছিল না; তাই তাদের আন্দোলনে তেমন সাড়া মেলেনি।’’

রাজপথে আন্দোলনের প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, তারা প্রথমে সংসদে সমাধান চেয়েছিল, কিন্তু উপযুক্ত সমাধান না मिलने কারণে এখন রাজপথে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের দাবি—সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হোক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের করা অধ্যাদেশগুলোকে দ্রুত আইন রূপে বহাল রাখা হোক। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে অর্থনৈতিক মন্দা আসতে পারে; এমন পরিস্থিতিতে যদি সরকারের ওপর জনগণের আস্থা না থাকে তবে বিএনপি সরকার পরিচালনা করতে পারবে না।

নাহিদ অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা সবাইকে অধ্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে সরস্ম হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে তিনি ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ সকল উপদেষ্টাকে নিজেদের করা অধ্যাদেশ নিয়ে বক্তব্য রাখার এবং দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেন। ‘‘তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছেন। এখন যে অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে, সংস্কার হবে না—তারা চুপ করে ক্যারিয়ারে ফিরে যাবে, সেটা চলবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে,’’ যোগ করেন নাহিদ।

প্রসঙ্গত, নাহিদ ইসলাম ২৯ মার্চ রাতে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন এবং ৩০ মার্চ সৌদি আরবের জেদ্দায় পৌঁছান। উমরাহ এবং রওজা জিয়ারত শেষে শনিবার বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি দেশে ফিরে আসেন। বিমানবন্দরে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান; এ সময় জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।