ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট ঢাকায় সংবিধান সংশোধন ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে বিক্ষোভ ডেকেছে

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোট রাজধানীতে শনিবার বিকেলে সংবিধান সংস্কার ও ‘জুলাই সনদ’ আদেশের বিষয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

বুধবার নয়—আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকের পর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রেস ব্রিফিং করে এই ঘোষণা জানান। তিনি জানান, সমাবেশ বায়তুল মোকার্রম মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত হবে।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারি দল সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং সরকার ফ্যাসিবাদী পথে হেঁটে সংবিধান সংস্কারকে ধামাচাপা দিয়ে কেবল সংশোধনী আনার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষ্য, সংবিধান রক্ষার জন্য ও নির্ধারিত দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলন ছাড়া ১১ দলের আর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও জানান, আগামী ৭ এপ্রিল ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিক্ষোভ কর্মসুচি এবং পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ চূড়ান্ত করা হবে।

এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় সংসদ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের ফলকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে তারা অত্যন্ত বিস্মিত, আহত ও মর্মাহত।

সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদল ওয়াকআউট করে। মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালে তখন তারা অভিযোগ করে যে ‘জুলাই সনদ’ আদেশ জারি করা হচ্ছে এবং বিরোধীদলীয় নেতাকে মিসকোড করা হয়েছে; এসব কারণে বিকেলে ৫টা ৪৫ মিনিটে বিরোধীদলীয় সদস্যরা অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান।

ডা. শফিকুর রহমান স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তারা প্রতিকার চেয়েছিলেন এবং বিষয়টি কোনো একদলীয় ইস্যু নয়। নির্বাচনের আগে সরকারি দল ও বিরোধী দল—সবাই এই ইস্যুতে একমত ছিলেন, তাদের পক্ষে বলা ও প্রচারণাও করা হয়েছিল। কিন্তু যে প্রতিকার পাওয়া হওয়া উচিত ছিল তা না পাওয়ায় দেশবাসীর রায়ের সঠিক প্রতিফলন হচ্ছে না—এই অবমূল্যায়ন তারা মেনে নিতে পারবেন না। এজন্যই তারা প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছেন।

জোট কর্তৃপক্ষের এই ঘোষণার ফলে আগামীদিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এবং সংসদভবনের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে তা নিয়ে সতর্কতা বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজনৈতিক এই উত্তাপ নিয়েই রাষ্ট্র ও প্রার্থীদের মধ্যে আগামীদিনে রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা ও কর্মসূচির ধারা অনুসরণ করবে।