ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

টানা ১০ দিন বন্ধ থাকার পর ভোমরা স্থলবন্দর পুনরায় চালু

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর টানা ১০ দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে আবারও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং সাপ্তাহিক ছুটির কারণে গত ১৮ মার্চ (বুধবার) সকাল থেকে ২৭ মার্চ (শুক্রবার) পর্যন্ত বন্দরের সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল।

এইভাবে এত দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরকার মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন। তবে বন্ধ থাকা সময়েও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকে, যদিও সংখ্যাটি ছিল অপেক্ষাকৃত কম।

ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে দুই দেশের ব্যবসায়ি নেতৃবৃন্দের আলোচনার পরে গত ১৮ মার্চ থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শনিবার সকাল থেকেই বন্দরে পুনরায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ধীরে ধীরে পুরোদমে চালু হয়েছে।

ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক রাশেদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটির সময়ও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত সুবিধাভোগী ছিল, তবে ছুটির দিনে যাত্রীসংখ্যা ছিল খুবই কম।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহামন জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঘোজাডাঙা স্থলবন্দর ও ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসায়ি সমিতির নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ১৮ মার্চ থেকে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখা হয়। শনিবার থেকে আবারও বন্দরের সব ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জেলার শহর থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্থলবন্দরটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক করিডোর হিসেবে বিবেচিত। ভারতের ঘোজাডাঙা থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৬০ কিলোমিটার হওয়ায় ভোমরা বন্দর ব্যবসায়িকভাবে কৌশলগত গুরুত্ব রাখে। গত ঈদের ছুটি ও সরকারি ছুটির কারণে সর্বোচ্চ ১০ দিন বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এখানকার রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।

বন্দর চালুর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন ও পণ্য আমদানি-রপ্তানি ধীরে ধীরে গতিতে ফিরছে এবং বন্দরে কর্মরত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে উৎসাহ দেখায়।