ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

পদ্মা বাসডুবিতে নিহতদের ঘটনায় সাকিব-তামিমসহ ক্রিকেটারদের শোকপ্রকাশ

পদ্মা নদীতে ঘটেছে সেই মর্মান্তিক বাসডুবি—ঘটনায় পুরো দেশ শোকাগ্রস্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্ধারকাজ ও স্বজনদের আহাজারির করুণ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে; স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন ঘটে যাওয়া এই ঘটনার ছবি ও বার্তা এখন অনেকের টাইমলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে।

দেশের সাবেক ও সক্রিয় ক্রিকেটাররাও হতাহতদের জন্য শোকপ্রকাশ করেছেন। tamim ইকবাল তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দুর্ঘটনার একটি ছবি পোস্ট করে শোকশিবিরের কার্ডের মতো চিত্রটি শেয়ার করেছেন। ছবিতে কালো আবহ ও লেখা দেখা গেছে—’আমরা শোকাহত ও ২০২৬ সালের ২৫ মার্চকে স্মরণ করব।’ ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক মানুষকে দোয়ায় রাখছি। আল্লাহ তাদের পরিবারকে ধৈর্য ও আরোগ্য দিন।’

সাকিব আল হাসানও ব্লগিং করেছেন, ‘গতকালকের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা। নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান ও উদ্ধার হোক—এই প্রার্থনা রইল। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।’

নুরুল হাসান সোহানও ফেসবুকে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ফেরিঘাটে আজকের মর্মান্তিক ঘটনাটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এই রাস্তাই আমারও চলাচলের—আজ হয়তো আমি সেখানে থাকতে পারতাম। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন। যারা স্বজন হারিয়েছেন, আল্লাহ তাদেরকে সহ্যের শক্তি দিন।’

এলাকার বাজে খবরগুলো কেবল এটিই নয়—সম্প্রতি রেল ও লঞ্চ দুর্ঘটনার খবরও এসেছে, ফলে অনেকের ঈদযাত্রার আনন্দ কাঁদায় মিলেছে। লিটন দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার খবর দেখে গভীরভাবে মর্মাহত। এত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে—এটা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। নিহতদের পরিবারের কষ্ট কল্পনাতীত।’ আর ক্রিকেটার রুবেল প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কেন আমাদের দেশে এত দুর্ঘটনা? ঈদে কেন শোকের ছায়া মিশে যায়—এটা আমাদের অসচেতনতাই কি, নাকি অন্য কিছু?’

প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস গতকাল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পল্টুন ছিঁড়ে নদীতে পড়ে যায়। অনেক যাত্রী ফেরিতে ওঠার আগে বাস থেকে নেমে যাবায় তারা বেঁচে গেছেন; কেউ কেউ সাঁতরে তীর পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছেন। তবুও অনেকে তাঁদের মা-বাবা, ভাই-বোন হারিয়েছেন। বর্তমানে উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ২৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চালাচ্ছে। শোকস্তব্ধ এই মুহূর্তে দেশের মানুষের দোয়া ও সহমর্মিতা নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি জমা হচ্ছে।