ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ক্রেডিট কার্ডে নতুন গাইডলাইন: সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়লো ৪০ লাখ

বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করতে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানান।

দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়ায় এবং সেবার পরিধি সম্প্রসারিত হওয়ায় এই খাতে বিদ্যমান জটিলতা কমানো ও নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে পুরনো নীতিমালা হালনাগাদ করে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে এবং গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষা, দায়িত্বশীল ঋণ প্রদান ও নগদবিহীন লেনদেনকে উৎসাহিত করে একটি স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে গাইডলাইনের প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ক্রেডিট সীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন পদ্ধতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বিষয়ক নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়ানো। পূর্বে যেখানে সর্বোচ্চ ঋণসীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, তা বাড়িয়ে এখন ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনিরাপদ (আনসিকিউরড) ঋণের সীমাও ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়াও গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি মোকাবিলা, কার্ডভিত্তিক লেনদেনের পরিশোধ সংক্রান্ত সমস্যা ও বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে কার্ড ইস্যু ও বিপণনের সময় সতর্কতা, তথ্য সুরক্ষা, বিলিং স্বচ্ছতা এবং দ্রুততর অভিযোগ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে নতুন এই গাইডলাইন গ্রাহকদের নিরাপত্তা বাড়াবে, বাজারে বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করবে এবং ক্রেডিট কার্ড খাতকে আরও দায়িত্বশীল ও ঝুঁকি-সচেতন করবে।