ঢাকা | শুক্রবার | ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

বাংলাদেশ ব্যাংক জারি করল নতুন ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন, ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত নতুন পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন জারি করেছে। গাইডলাইনের উদ্দেশ্য—কার্ড পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করা। এই তথ্য রোববার ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন।

ব্যক্তিগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে নগদ অর্থ বহনের বিকল্প হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের জনপ্রিয়তা বাড়ায় এবং লেনদেন-পরিধি সম্প্রসারণের সঙ্গে জটিলতাও বেড়েছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় পূর্বের নীতিমালা হালনাগাদ করে বিভিন্ন দিকসহ একটি বিস্তৃত গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পাশাপাশি গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষা, দায়িত্বশীল ঋণ প্রদানের উৎসাহ এবং নগদবিহীন লেনদেনের জন্য স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিতকরণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে ক্রেডিট কার্ডের প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, কার্ডের ধরন, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদন্ড, ঋণসীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন কাঠামো, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্য গোপনীয়তা, বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। পূর্বে এটি ছিল ২৫ লাখ টাকা। অনিরাপদ (আনসিকিউর্ড) ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গাইডলাইনে গ্রাহকের অভিযোগ, সম্ভাব্য অনিয়ম বা জালিয়াতি মোকাবিলা ও কার্ড-ভিত্তিক লেনদেন পরিশোধে জটিলতা হলে তা সমাধানের প্রক্রিয়াও পুনঃসংগঠিত করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও সাইবার নিরাপত্তা শক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই উদ্যোগ গ্রাহকদের জন্য পরিষেবা সহজতর ও নিরাপদ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠাগুলোকে দায়িত্বশীল ঋণদান, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি ঋণসীমা সুবিধা এনে দিতে পারে—কিন্তু ব্যাংকগুলোর সতর্ক মনিটরিং ও গ্রাহক সচেতনতা সবসময় অপরিহার্য থাকবে।