ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ দেশজুড়ে উদযাপন

এক মাসের ত্যাগ ও ইবাদতের পর শনিবার (২১ মার্চ) দেশের মুসলিম সমাজ আনন্দ ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে। রাজধানীসহ সারাদেশে লাখ লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিয়েছেন। দুর্যোগজনিত কোনো বাধা শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় ঈদগাহসহ বড় ময়দান ও মসজিদগুলোতে জামাতের সব ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে।

এবার প্রধান ঈদজামাত অনুষ্ঠিত হবে সকালে সাড়ে আটটায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। যদি আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব না হয়, তবে সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকার্রমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক প্রধান ইমামত করবেন; তার অনুপস্থিতিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহে দেশের মানুষকে নিয়ে প্রধান জামাতে অংশ নেবেন। জাতীয় ঈদগাহে যাবতীয় আয়োজন ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম ঢাকাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে প্রধান জামাতে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এবার জাতীয় ঈদগাহে তিন হাজার পাঁচ যোজনার নারীসহ মোট ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা গেট, ওজু ও নামাজের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাধারণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত ওজুখানা ও জরুরি চিকিৎসা টিমও ময়দানে মোতায়েন থাকবে।

নিরাপত্তা বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, জামাতকে কেন্দ্র করে কোনো নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী বা নিরাপত্তা ইস্যু পাওয়া যায়নি; তবুও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো ঈদগাহ ও আশপাশ সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে। মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষা ভবন মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন প্রবেশ রোধ করা হবে। প্রবেশমুখে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা হবে; ডগ স্কোয়াড ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম মোতায়েন থাকবে। প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতিগণ, মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত আয়োজন করেছে। প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিবারের সঙ্গে অংশগ্রহণের অনুরোধ করেছেন। সেখানে তিনটি গেট, নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ ও নামাজের ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত ওজুসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে গতানুগত্যে পাঁচটি জামাত আয়োজন করা হয়েছে — সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায়। বিভিন্ন জামাতে দায়িত্ব পালন করবেন- প্রথম জামাতে সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় জামাতে মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন, চতুর্থ জামাতে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী এবং পঞ্চম জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ইমামত করবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মাওলানা শহীদুল ইসলাম প্রস্তুত থাকবেন।

জাতীয় সংসদ দক্ষিণ প্লাজায় ঈদের জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে; এ জামাতে সংসদের স্পিকার, হুইপ ও সাংসদরা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাই অংশ নিতে পারবেন। জামাত সাধারণ জনগণের জন্যও উন্মুক্ত।

খুলনায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে সকাল ৮টায়; দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় ও তৃতীয় জামাত সকাল ১০টায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে এসব জামাত শরীরের ভেতরে স্থানান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে। শহরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে পৃথক সময়ে জামাত আয়োজন করা হয়েছে; কিছু কেন্দ্রীয় স্থানে মহিলাদের পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ওয়ার্ডে আলাদা করে জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে; উপজেলার কমিটিগুলোও নিজ উদ্যোগে সময় নির্ধারণ করেছে। ঈদ উপলক্ষে নগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় টহল জোরদার করা হবে। তাছাড়া আতশবাবি ও পটকা ফোাটা, রাস্তায় স্টল বসানো, উচ্চস্বরে মাইক বা ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছিটানো ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ঈদ উদযাপনের সুবিধার্থে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, পুনর্বাসন কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, সেফ হোম ও অন্যান্য সামাজিক সেবাকেন্দ্রে উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণভাবে বলা যায়, এবারও ঈদ উদযাপন শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মহান আল্লাহর কাছে প্রত্যেকের জন্য আনন্দ, শান্তি ও সুস্বাস্থ্যের প্রার্থনা করা হচ্ছে।