ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন—জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তিনি বছরের ৬১ ছিলেন। পরিবারে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

শামস সুমনের মৃত্যু সংবাদ হাসপাতাল থেকে নিশ্চিত করেন অভিনেতা সুজাত শিমুল। সুজাত শিমুল জানান, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক পাঁচটার পর শামস সুমন হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে তিনি ওই সময় আরেক অভিনেতা শাহাদৎ হোসেনকে জানান। শাহাদৎ দ্রুত তাঁকে ঢাকার গ্রিন রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান; সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৃত্যুর মূল কারণ ছিল কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। সুজাত শিমুল বলছেন, ওই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা এ তথ্য জানান।

শামস সুমন সংগঠনে সক্রিয় ছিলেন—সংঘের সহ-সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। মঞ্চ থেকে টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন ও সিনেমা—বহুমাত্রিক ভূমিকায় কৃতিত্ব রেখে তিনি দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’-এর সদস্য ছিলেন তিনি।

সাম্প্রতিক কয়েক বছরে অভিনয়ে অনিয়মিত থাকলেও শামস সুমন রেডিও ভূমির স্টেশন চিফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং চ্যানেল আই-এর অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এক সময়ের জনপ্রিয় টিভি নাট্যশিল্পী তিনি; মঞ্চ, ছোট ও বড় পর্দায় অবস্থান ছিল দৃঢ়।

শামস সুমন অভিনীত কিছু চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে: ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ (২০১৬), ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’ (২০১৬), ‘চোখের দেখা’ (২০১৬), ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’ (২০১৪), ‘আয়না কাহিনী’ (২০১৩), ‘বিদ্রোহী পদ্মা’ (২০০৬), ‘জয়যাত্রা’ (২০০৪), ‘নমুনা’ (২০০৮), ‘হ্যালো অমিত’ (২০১২) ইত্যাদি। ২০০৮ সালে তিনি ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

পরিবার ও শিল্পসঙ্গী সূত্রে জানা, আগামী বুধবার সকাল ১০টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং সন্ধ্যায় রাজশাহীতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। রাজনীতিবিদ, কল্যাণ সংস্থা বা সহশিল্পীদের থেকে শোকবার্তা আসছে; শোক প্রকাশ করেছেন অনেকেই।