ঢাকা | বুধবার | ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

খেলাপি ঋণ আদায় দ্রুত করতে ‘প্রাক-মামলা’ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে নির্দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলি (শেডিউল) ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগে ‘প্রাক‑মামলা’ ভিত্তিক মধ্যস্থতা (এডিআর) পদ্ধতিতে সমাধানের জন্য দক্ষ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার এ সম্পর্কিত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে তাদের মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নিষ্পত্তি করতে হবে। এই সময়সীমা চলতি অর্থবছরের শেষ দিন বিবেচনায় রেখে দেওয়া হয়েছে এবং এতে ব্যাংক সেক্টরের তারল্য ও আর্থিক স্থিতি উন্নয়নের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় মামলার চাপ কমানো যাবে এবং অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ ও দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭-এ পড়তে পারে এমন মামলাগুলো আদালতে যাওয়ার আগেই সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশের ঋণ পুনরুদ্ধারের জাতীয় কর্মসূচিতে মধ্যস্থতার মাধ্যমে প্রথম ধাপে উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে এই ১ শতাংশ লক্ষ্যকে দেখা হচ্ছে।

নতুন নির্দেশনায় ২০২৪ সালের ২২ মে জারি করা বিএরপিডি সার্কুলার নং-১১-এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে, কিন্তু এবার বিশেষভাবে আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন অনুসারে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি প্যানেল থেকেই মধ্যস্থতাকারী বাছাই করতে হবে।

প্যানেলে সাধারণত অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এবং অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা থাকবেন। সার্কুলারে মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের জন্য ১০টি যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে—যেগুলোতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম, বিশেষজ্ঞ দক্ষতা, মধ্যস্থতা সম্পর্কিত জ্ঞান ও প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, পরিষ্কার আইনি রেকর্ড, আর্থিক সততা, ঋণখেলাপি না হওয়া এবং আর্থিক সক্ষমতা।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে মধ্যস্থতাকারীর কাছ থেকে হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাছাড়া, এসব মধ্যস্থতা সুবিধা সম্পর্কে গ্রাহক ও পক্ষগুলিকে সক্রিয়ভাবে তথ্য দেওয়া এবং ব্যবস্থার সুবিধা ও ধাপ সম্পর্কে জানানো ব্যাংকগুলোর দ্বায়িত্ব রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, আদালতের বাইরে দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার বদলে একটি কার্যকর, অর্থ‑সম্মত ও সময়পালক বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও ঋণ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।