ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ইরানের বিপ্লবী গার্ড নেতানিয়াহুকে খুঁজে পেলে হত্যা করার অঙ্গীকার

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যা করার অঙ্গীকার করেছে। রোববার আইআরজিসির এক বিবৃতিতে তাকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির উদ্ধৃতিতে আইআরজিসির নির্দেশিত সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজে বলা হয়েছে, ‘‘যদি এই শিশু হত্যাকারী অপরাধী বেঁচে থাকেন, আমরা সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাড়া করে তাকে হত্যা করব।’’ বিবৃতিটি তার চলমান যুদ্ধবিধির প্রেক্ষাপটে আসে, যেখানে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা তীব্রভাবে বজায় আছে।

নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে সম্প্রতি অনিশ্চয়তা ছড়িয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে তিনি জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ১২ মার্চ তার অফিস থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও নিয়ে ভারি জল্পনা তৈরি হয়—ভিডিওতে তাঁর এক হাতে ছয়টি আঙুল দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।

কিছুতে ইঙ্গিত করা হয়েছে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তবাকা বা ঘেঁসানো হতে পারে। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ব্যাখ্যায় বলা হয় ভিডিওতে আসলে পাঁচটি আঙুলই ছিল; ক্যামেরার কোণ, আলো ও ফোকাসের কারণে ভ্রম দেখা দেওয়ায় ছয়টি আঙুল মনে হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে বিমান হামলার পর ওই বয়সে (৭৬) নেতানিয়াহুর প্রথম প্রেসকনফারেন্সের ভিডিওটিই ছিল সেই সময়কার প্রধান বার্তা। সেই ভাষণে তিনি ইরানের নতুন নেতৃত্ব মোজতবা খামেনির বিরুদ্ধে কড়া ভাষা ব্যবহার করেছিলেন এবং ইরানি শাসনবিরোধী তৎপরতার বিষয়েও মন্তব্য করেছিলেন।

আইআরজিসির হুঁশিয়ারি ও নেতানিয়াহুর দুর্লভ জনসমক্ষে উপস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া তোলার পাশাপাশি কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন—প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান কি নাকি গোপন রাখা হচ্ছে? ক্যান্ডেস ওয়েন্সের মতো কিছু মার্কিন রক্ষণশীল ব্যক্তিত্বও এই ধরনের সন্দেহ উত্থাপন করেছেন।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর দপ্তর তার মৃত্যুর যে কোনও গুঞ্জন অস্বীকার করে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ আছেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দপ্তর জানিয়েছে, ‘‘এসব ভুয়া খবর। প্রধানমন্ত্রী সুস্থ আছেন।’’ তবে দপ্তর বা নেতার সহকারীরা ব্যাপক বিবৃতি প্রদান করেননি। কিছু ব্যবহারকারী বলেছেন, নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুর সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতি ধরে দেখা যাচ্ছে যে তিনি ৯ মার্চের পর থেকে পোস্ট করেননি।

এই প্রতিবেদনটির তথ্যসূত্র: এএফপি।