ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের নাম ঘোষণা হতেই সংসদে তীব্র হট্টগোল শুরু হয় এবং প্রধান বিরোধীদলসহ বিরোধী জোটের কয়েকজন সংসদ সদস্য স্যার থেকে বেরিয়ে আসেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরুর জন্য তার নাম ঘোষণা করা হলে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রথমে জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজের আসন ত্যাগ করলে দ্রুত অন্যরাও পেছনের দিকে উঠে চলে যান এবং ওয়াকআউট করেন।
ওয়াকআউটকারীরা ‘গেট গেট গেট আউট, কিলার চুপ্পু গেট আউট’, ‘গণতন্ত্র ফ্যাসিবাদ, একসঙ্গে চলে না’—রকমের স্লোগান দেন এবং ‘গাদ্দার চুপ্পু’ লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। জাতীয় সংগীতের সময় তারা দাঁড়িয়েও কণ্ঠ দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানায়নি; তারা বলেছে, ‘আমরা জাতীয় সংগীতকে সম্মান জানাচ্ছি, রাষ্ট্রপতিকে না।’
এর আগে অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচনী কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়। কণ্ঠভোটে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। ভোটাভুটির সময় জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট নিরব থেকেছে; তারা হ্যাঁ বা না—কোনও রকম সমর্থন জানাননি।
হাফিজ উদ্দিনের একমাত্র প্রস্তাবকারী ছিলেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম, এবং খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম তার প্রস্তাবে সমর্থন জানান। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্বকারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কণ্ঠভোটে প্রস্তাব পাশ করে হাফিজ উদ্দিনকে স্পিকার হিসেবে ঘোষণা করেন।
অধিবেশনটি শুরু হয়েছিল স্পিকারের অনুপস্থিতিতেই—পূর্বসূরি স্পিকার পলাতক আছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় শুরুতে দলীয় নেতার প্রস্তাবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সভাপতিত্ব করেন। পরে কার্যক্রমে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে অধিবেশন এগিয়ে যায়।




