ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সাতক্ষীরার পাঁচ মন্দিরে ভোরের দুঃসাহসিক চুরি; স্বর্ণ-রূপাসহ ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট

সাতক্ষীরায় পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি এলাকায় বুধবার ভোরবেলা পাঁচটি মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি হয়েছে। ঘটনার সময় ঘড়ি প্রায় তিনটায়। চোরেরা মন্দিরের তালা কেটে গিয়ে নগদ টাকা, দূর্গা বা কালী প্রতিমায় রাখা স্বর্ণ ও রূপার গহনা মিলিয়ে আনুমানিক ২০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে।

জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন জানান, ভোর সাড়ে তিনটা থেকে চারটার দিকে মন্দির এলাকায় মেচে থাকা ছাত্ররা চুরির বিষয়টি জানতে পারার পর তারা সমিতিকে খবর দেয়। পরে সমিতির কয়েকজন সদস্য মন্দিরে গিয়ে দেখেন কালী মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, চৈতন্যদেব মন্দির ও রাধা গোবিন্দ মন্দির—এই সব মন্দিরের দরজার তালা ভাঙা এবং ভেতরের জিনিসপত্র ছিন্নভিন্ন অবস্থায় রাখা।

তদন্তে জানা যায়, চোরেরা প্রায় সাত ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনা এবং কয়েক ভরি রূপার গহনা ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে। সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বলছেন মালামালের মধ্যে রয়েছে কালীমাতার স্বর্ণের জিহবা, দুটি স্বর্ণের বালা, দুই জোড়া পেটি, দুই জোড়া শাখা, একটি স্বর্ণের চেইন ও আরও কিছু রূপার গহনা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ একটি তালা কাটা মেশিন উদ্ধার করেছে। সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধারের লক্ষ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।

মন্দির সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য শিক্ষক দীপা সিন্দু তরফদার বলেন, মাত্র দুই দিন আগেও শহরের কাটি কর্মকারপাড়া এরাকায় একটি মন্দিরে চুরি হয়েছে। ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। তিনি দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের এবং মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

স্থানীয়রা বলছেন দ্রুত কার্যকর তদন্ত ও মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো না হলে ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে আবারও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে—এই আশঙ্কা রয়েই গেছে। তদন্তকারীরা ফেনা সংগ্রহ ও সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই শুরু করেছে।