ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ইরান নিশ্চিত: বাংলাদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালে বাধা পাবে না

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মাঝেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে ইরান আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তেহরান জানিয়েছে, বাংলাদেশের জন্য তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়েই নিরাপদে চলাচল করতে পারবে—শর্ত শুধু আগাম অবহিত করা।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকি বাড়ায় বাংলাদেশ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ইরান জানিয়েছে, প্রণালিতে প্রবেশের আগে তাদের জানালে ওই ধরনের জাহাজগুলোকে বাধা দেওয়া হবে না, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চলতে থাকা তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার এসে পৌঁছেছে। এ সপ্তাহে আরও চারটি জাহাজে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টন ডিজেল ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে আসা পাঁচ চালান মিলিয়ে মোট প্রায় ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টন জ্বালানি দেশে এসে পৌঁছলে তা জাতীয় চাহিদার প্রায় ১৬ দিন পূরণে সহায়তা করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

সরকার জানায়, এপ্রিল মাসের চাহিদা পূরণে বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে প্রায় তিন লাখ টন ডিজেল আমদানি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে—এই আশঙ্কা মাথায় রেখেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

স্বাভাবিক সময় দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১২ হাজার টন হলেও বর্তমানে সরকারি সরবরাহ প্রায় দৈনিক ৯ হাজার টনে নামিয়ে এসেছে। তাই দ্রুত আমদানি ও চালান নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে কর্মকর্তারা বলছেন।

এদিকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চীন ও ভারতের পক্ষ থেকে সহায়তার আগ্রহ ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং বর্তমানে সংকটের তেমন কোনো আশঙ্কা নেই। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও বলেছেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে চীন বাংলাদেশকে সহযোগিতায় প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, ওমান ও কুয়েতসহ আটটি দেশ থেকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করে।

সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সরকার বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বাজার পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং সেল গঠন করেছে এবং মজুদদারি ও অনিয়ম আটকাতে জেলা প্রশাসকদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি এ প্রস্তুতি ও আন্তঃসরকারিক যোগাযোগ থেকেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জরুরি তহবিল ও বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত থাকলে জনগণের জ্বালানি ব্যবস্থায় তাত্ক্ষণিক বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।