ঢাকা | সোমবার | ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২০শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

মনিরা-মিতু-নুসরাতের নেতৃত্বে ‘জাতীয় নারীশক্তি’ আত্মপ্রকাশ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সূত্রে বৃহস্পতিবার নয়—আজ রোববার, আন্তর্জাতিক নারী দিবস ৮ মার্চ—রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে দলের সহযোগী সংগঠন ‘‘জাতীয় নারীশক্তি’’ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দলীয় আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এই ঘোষণা করেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, সংগঠনটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিএনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন; সদস্যসচিব হয়েছেন ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম।

এনসিপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করলেও জাতীয় নারীশক্তি নারীসুরক্ষা, নারী অধিকার, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সাইবার বুলিংসহ বিভিন্ন নারীকেন্দ্রিক ইস্যুতে স্বাধীনভাবে এগিয়ে আসবে বলে organisers জানান।

নাহিদ ইসলাম অনুষ্ঠানকালে বলেন, ইতিহাস জানায়—নারীদের অধিকার আদায়ে প্রত্যেকটি অর্জন আন্দোলন ও সংগ্রামের ফল। ভোটাধিকার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার—এসবের জন্য নারীদের বারবার লড়াই করতে হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলন—সব আন্দোলনেই নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন।

তিনি আরও স্মরণ করান, জুলাই আন্দোলনের সূচনালগ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা জাতীয় কর্মসূচিকে একটি নতুন মাত্রা দিয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় অনেক নারী শিক্ষার্থী অগ্রভাগে ছিলেন—তাই তারা বিশেষভাবে টার্গেট হয়েছিল।

নাহিদ বলেন, ‘‘জুলাই আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক নারী রাস্তায় ছিলেন; তবু পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে নারীর উপস্থিতি কম দেখা গেছে। সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক চাপ এবং অনলাইন সাইবার বুলিং এসবের অন্যতম কারণ। অনেক নারী কর্মী এসব কারণে রাজনীতি ছেড়েছেন।’’

তার অভিজ্ঞতায় আলাদা একটি প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন রয়েছে, যেখানে নারী নিজেদের ইস্যু নিয়ে কথা বলে সংগঠিত হতে পারবে—এই চিন্তা থেকেই জাতীয় নারীশক্তি জন্মেছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ‘‘জুলাই আন্দোলনে নারীরা বড় স্টেকহোল্ডার ছিলেন; তাদের কণ্ঠস্বর রাজনীতিতে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। জাতীয় নারীশক্তি হারিয়ে যাওয়া সেই নারী কণ্ঠগুলোকে আবার সামনে আনার চেষ্টা করবে।’’

অনুষ্ঠানে নাহিদ সরকারকে নারী সংক্রান্ত সহিংসতা ও সাইবার বুলিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানান এবং বলে দেন, দলমত নির্বিশেষে যেকোনো অপরাধীকে সংবিধান ও আইনের আওতায় আনতে হবে।

উল্লেখ্য, আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ‘‘সাম্প্রতিককালে নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রতিকার এবং ধর্ষণের বিচার’’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। মনিরা শারমিন ও নুসরাত তাবাসসুম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন; শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাহমুদা আলম মিতু উপস্থিত থাকতে পারেননি। অনুষ্ঠানে সাবেক স্থানান্তরকালীন সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন নারীও উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের নেতারা জানান, অচিরেই জাতীয় নারীশক্তির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে এবং সারাদেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করে জনসম্মুখে তাদের উদ্যোগগুলো নেওয়া হবে। সংগঠনটি উল্লেখ করেছে—নারীর নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।