ঢাকা | রবিবার | ১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতকে খাদের কিনারা থেকে তুলে এনেছে সদ্য বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তার এই কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ এবং অর্থনীতির জন্য এক বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এই কাজগুলোকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, তিনি এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন এবং আরও নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর, তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে তিনি মূল বক্তব্য প্রকাশ করেন।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করতে গত সরকারের সময় নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, এই অবদানগুলো অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং উন্নয়নের অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে কাজ করছেন।

তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক যথাযথ সহযোগিতা দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরগুলিতে বিভিন্ন শিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের জন্য নেওয়া নীতির প্রশংসা করেন এবং সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন বাড়বে—এটাই তার লক্ষ্য।

গভর্নর আরও বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং কার্যক্রমে মনোযোগ দেওয়া হবে। তিনি উচ্চ সুদের হার নিয়ে আলোচনাও করেছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিশেষ করে, ব্যাংকের সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ এবং নিয়ন্ত্রিত করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করা হবে। এ ছাড়া, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ডেলিগেশন অব অথরিটি চালু করা হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে, তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ‘মব’ বা অবান্তর কার্যকলাপে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় কার্যকলাপের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।